জীবজন্তুর পশম কি ক্ষতিকারক?—এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই আসে, বিশেষ করে যাঁরা বাড়িতে পোষা প্রাণী রাখেন। আসলে পশম নিজে সবসময় ক্ষতিকারক নয়, তবে কিছু পরিস্থিতিতে এটি স্বাস্থ্যের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
প্রথমত, অনেক মানুষের শরীরে অ্যালার্জির প্রবণতা থাকে। বিড়াল, কুকুর বা অন্যান্য পশুর পশমে থাকা ক্ষুদ্র প্রোটিন, ধুলো বা মৃত ত্বকের কোষ অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, চোখ চুলকানো বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যাঁদের অ্যাজমা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, পশমে সহজেই ধুলো, ময়লা ও জীবাণু জমতে পারে। যদি পোষা প্রাণী নিয়মিত পরিষ্কার না রাখা হয়, তাহলে সেই পশমের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি সতর্কতার বিষয়।
তবে এর মানে এই নয় যে পশম সবসময় ক্ষতিকারক। সঠিক পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। যেমন—পোষা প্রাণীকে নিয়মিত স্নান করানো, তাদের থাকার জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং বাড়ি নিয়মিত ঝাড়ু ও ভ্যাকুয়াম করা। এছাড়া, যাঁদের অ্যালার্জি আছে, তাঁরা পোষা প্রাণীর সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ কিছুটা সীমিত রাখতে পারেন।
অন্যদিকে, পশুর সঙ্গে বসবাস মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারীও হতে পারে। তারা মানুষের একাকীত্ব কমায় এবং আনন্দ দেয়। তাই সঠিক যত্ন নিলে পশমের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, জীবজন্তুর পশম নিজে ক্ষতিকারক নয়, বরং তার সঠিক ব্যবস্থাপনার উপরই নির্ভর করে তা আমাদের জন্য কতটা নিরাপদ।