গত কয়েকমাসে মাও সন্ত্রাসে কিছুটা হলেও রাশ টানতে সক্ষম হয়েছে ছত্তিশগড় প্রশাসন। সূত্র মারফৎ জানা গেছে এই কদিনে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে। এবার সেই আবহে বুধবা...
গত কয়েকমাসে মাও সন্ত্রাসে কিছুটা হলেও রাশ টানতে সক্ষম হয়েছে ছত্তিশগড় প্রশাসন। সূত্র মারফৎ জানা গেছে এই কদিনে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে। এবার সেই আবহে বুধবার ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পণ ২৬ মাওবাদীর। যাদের মাথার দাম ছিল ৬৫ লক্ষ টাকা। জানা গেছে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ওড়িশায় আইইডি বিস্ফোরণে অভিযুক্ত মাও নেত্রী।
এই কদিনে কেবল যে নেতৃস্থানীয় মাওবাদীরা নিহত হয়েছেন তাই নয়, ঢালাও আত্মসমর্পণের খবরও এসেছে। ছত্তিসগড়ের সুকমায় অস্ত্রসমর্পণ করেছেন এই মাওবাদীরা। সাত মহিলা সদস্য-সহ ২৬ জন মাওবাদী এদিন আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের মাথার মোট দাম ছিল ৬৫ লক্ষ টাকা।
এদিন সুকমা জেলার পুলিস এবং আধাসেনা আধিকারিকদের কাছে অস্ত্রসমর্পণ করেন এই ২৬ জন মাওবাদী। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন মাও নেত্রী লালী ওরফে মুচাকি আয়তে লখমু। ২০১৭ সালে ওড়িশার কোরাপুটে আইইডি বিস্ফোরণে ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন মাওবাদী হামলায়, সেই হামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম লালী। তাঁর মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও সুকমায় এক মাওবাদী হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তাকর্মীর নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মেহল লখমাও এদিন আত্মসমর্পণ করেছেন। তার মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা।
মাওবাদীদের সমাজের মূলস্রোতে ফেরাতে নানা প্রকল্প চালু করেছে ছত্তিশগড় সরকার। এছাড়াও আত্মসমর্পণকারী প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এর ফলেই মাওবাদীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ভাবে অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই নিয়ে চলতি বছর ছত্তিশগড়ে বহু মাও নেতা-কর্মী নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন, মাওবাদী সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজু ওরফে গগন্না, পলিটব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র রেড্ডি ওরফে চলপতি, তাঁর স্ত্রী রবি ভেঙ্কট লক্ষ্মী চৈতন্য ওরফে অরুণা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নরসিংহচলম ওরফে সুধাকর, পিএলজিএ-র শীর্ষ কমান্ডার মাধভী হিডমার মতো শীর্ষ নেতা-নেত্রীরা।
প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদীদের নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার পর থেকেই মাওবাদী-অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। আর তার ফলেই একের পর এক মাওবাদী ধারা পড়েছেন বা আত্মসমর্পণ করেছেন বলেই সূত্রের খবর।