বকেয়া ডিএ নিয়ে হাজার জটিলতা। অবশেষে 'সুপ্রিম' রায় মেনে সরকারি কর্মচারীদের গত অর্থবর্ষের বকেয়া মহার্ঘভাতার একাংশ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই পর্বে সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে ...
বকেয়া ডিএ নিয়ে হাজার জটিলতা। অবশেষে 'সুপ্রিম' রায় মেনে সরকারি কর্মচারীদের গত অর্থবর্ষের বকেয়া মহার্ঘভাতার একাংশ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই পর্বে সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে এবং পেনশনভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়া অর্থের একাংশ পাঠানো হচ্ছে। এবার এই প্রক্রিয়ায় প্রয়াত সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হল। বুধবার নতুন অর্থবর্ষের প্রথম দিন এনিয়ে নবান্নে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল। তাতে জানানো হয়েছে, মৃত সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ এবং এরিয়ার মিটিয়ে দেওয়া হবে।
মৃত রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (DA) ও মহার্ঘ ত্রাণ (DR) প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা চালু করল রাজ্য সরকার। অর্থ দফতরের পেনশন শাখা থেকে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ/ডিআর প্রদানের সময় দেখা যাচ্ছে, বহু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মী বা পেনশনভোগী ইতিমধ্যেই প্রয়াত। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের মনোনীত ব্যক্তি বা আইনানুগ উত্তরাধিকারীদের কাছে কীভাবে সেই অর্থ পৌঁছবে, তার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর (০৩৩-২২৫৩৫৪১৭) এবং ইমেল আইডি (ifms-wb@gov.in) চালু করেছে। দাবিদারদের নির্দিষ্ট নথি ও ব্যাঙ্কের তথ্য সহ আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরে। এই আবেদন করতে হবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৮০ দিনের মধ্যে।
ডিআর বকেয়া প্রদানের ক্ষেত্রে:
যদি মনোনীত ব্যক্তির তথ্য পেনশন বিতরণকারী দফতরে (যেমন ট্রেজারি বা ব্যাঙ্ক) উপলব্ধ থাকে, তবে সরাসরি সেই মনোনীত ব্যক্তিকেই অর্থ প্রদান করা হবে। তবে মনোনীত ব্যক্তি না থাকলে, উপযুক্ত নথি জমা দিয়ে আইনানুগ উত্তরাধিকারীরা সেই অর্থ দাবি করতে পারবেন।
ডিএ বকেয়া প্রদানের ক্ষেত্রে:
যেসব কর্মী ২০১৫ সালের আগে প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতর HRMS আইডি তৈরি করে ই-সার্ভিস বুক আপডেট করে বকেয়া হিসাব নির্ধারণ করবে। আর ২০১৫-র পরে প্রয়াত কর্মীদের ক্ষেত্রে অনলাইন তথ্যের ভিত্তিতেই হিসাব করে অর্থ প্রদান করা হবে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বকেয়া অর্থ দ্রুত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে প্রকৃত দাবিদারদের হাতে পৌঁছবে বলেই আশা করছে প্রশাসন।