ছেলের উচ্চশিক্ষা চাইতেন বাবা। চাইতেন ছেলে নিট পরীক্ষায় বসুক। কিন্তু বাবার ইচ্ছায় সায় ছিল না ছেলের। এই বিষয় নিয়ে দু'জনের মধ্যে প্রায়শই ঝামেলা লেগে থাকত। তবে শুক্রবার সেই অশান্তি চরমে ওঠে। আর তারপর থেকে...
ছেলের উচ্চশিক্ষা চাইতেন বাবা। চাইতেন ছেলে নিট পরীক্ষায় বসুক। কিন্তু বাবার ইচ্ছায় সায় ছিল না ছেলের। এই বিষয় নিয়ে দু'জনের মধ্যে প্রায়শই ঝামেলা লেগে থাকত। তবে শুক্রবার সেই অশান্তি চরমে ওঠে। আর তারপর থেকেই আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান পেশায় ওষুধ ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র সিং। পরে বাবার খোঁজে থানায় গিয়ে ডায়েরিও করেন ছেলে অক্ষত সিং। কিন্তু শেষে পুলিস তদন্তে নামতে যে তথ্য উঠে এল তা জেনে একপ্রকার তাজ্জব স্থানীয়রা।
নিখোঁজ ব্যক্তির তদন্তে নেমে বাড়ির তালাবন্ধ ঘরে তল্লাশি চালায় পুলিস। সেখানে একটি বড় নীল ড্রাম দেখে সন্দেহ হওয়ায় সেটি খোলেন তাঁরা। তখনই সেটি থেকে বেরিয়ে আসে মানবেন্দ্রর টুকরো দেহের নিম্নাঙ্গ। এই ঘটনার পর বাবা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে নাটকীয় চেহারা নেয় ছেলে অক্ষত। শুরু করেন কান্নাকাটিও। পরে পুলিসের সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আসল কাহিনী প্রকাশ্যে আসে। পুলিসের জেরার মুখে বাবাকে খুন করার কথা স্বীকার করেন অক্ষত।
পুলিস সূত্রে খবর, গত শুক্রবার পড়াশোনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে অশান্তি হয়। পরে আচমকাই মানবেন্দ্রর লাইসেন্সড রাইফেল নিয়ে তাঁর মাথায় গুলি করেন ছেলে। সেই আওয়াজ পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে অক্ষতের বোন। কিন্তু তাঁকেও মৃত্যু হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই ভয়েই সব জেনেও কাউকে কিছু বলতে পারেননি সে।
পুলিস সূত্রে আরও খবর, বাবাকে খুনের পর দেহটি বাড়ির নীচের তলায় নিয়ে গিয়ে টুকরো করে ছেলে। দেহের নিম্নাঙ্গ রেখে দেন ঘরে একটি নীল ড্রামের ভিতর। এবং উপরের অংশ কেটে প্লাস্টিকে ভরে তা পাশের গ্রাম সদারুনাতে ফেলে আসেন অক্ষত। পরে ঘরে রাখা দেশের অংশ পুড়িয়ে ফেলার ছক ছিল বলেও জানতে পেরেছে পুলিস।