বিধানসভায় ভয়াবহ ভরাডুবির পর পরিষদীয় দল হাত-ছাড়া হয়েছে কালীঘাট-তৃণমূলের। স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সুবিধা করতে পারেনি মমতা-তৃণমূল। এদিকে, লোকসভাতেও তৃ...
বিধানসভায় ভয়াবহ ভরাডুবির পর পরিষদীয় দল হাত-ছাড়া হয়েছে কালীঘাট-তৃণমূলের। স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সুবিধা করতে পারেনি মমতা-তৃণমূল। এদিকে, লোকসভাতেও তৃণমূলের বিদ্রোহী-২০ এনসিপিআই নামক একটি দলে যোগ দিয়েছেন। এমতাবস্থায় সূত্রের খবর, লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজই স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করছেন। রাজধানীর রাজনৈতিক মহল বলছে, আসন্ন বাদল অধিবেশনে ওই বিদ্রোহী-২০ জনকে যাতে এনসিপিআই-এর সাংসদ বলে স্বীকৃতি না-দেওয়া হয়, সেই লক্ষ্যেই ওম বিড়লার কাছে দরবার করতে যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর আজ বিকেল ৫ টায় ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে অভিষেক দাবি করবেন, বিদ্রোহী-২০ জন সাংসদ যেভাবে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ রূপে অবৈধ। রাজধানীর রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, গত রবিবার যখন তৃণমূলের বিদ্রোহী-২০ জন এনসিপিআই তে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলে ঘোষণা করেন এবং সংসদের অধিবেশনের নিজেদের জন্য আলাদা বসার বন্দোবস্ত করতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন, তখনই স্পিকারের তরফে জানানো হয়, দু-পক্ষের বক্তব্য শুনে তবেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
দু-পক্ষ বলতে, কাকলি ঘোষদস্তিদার ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের টিকিটে জেতা ২০ জন সাংসদ। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ৮ জন সাংসদ, যাঁরা তৃণমূলেই রয়ে গেছেন এখনও।
এমতাবস্থায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল ধরে রাখতে স্পিকারের দ্বারস্থ হচ্ছেন, তখন হাত গুটিয়ে বসে নেই তৃণমূলের বিদ্রোহী-শিবিরও। বৃহস্পতিবার শতাব্দী রায়ের বাড়িতেও এক দীর্ঘ বৈঠক চলে। যেখানে নিজেদের রণনীতি সাজান বিক্ষুব্ধরা।
আগামী মাসেই শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। লোকসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদরা যেহেতু দলবল নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং তা যেহেতু দুই-তৃতীয়াংশের সমান, সেহেতু দলত্যাগ বিরোধী আইন বিদ্রোহীদের পক্ষে যাবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকেই।
প্রেক্ষাপট
গত রবিবার বিমানবন্দর থেকে কাকলি দাবি করেন, বিদ্রোহীদের তালিকা আরও বাড়বে। লোকসভার ২২ জন সাংসদ তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। এমতাবস্থায়, সায়নী ঘোষ রহস্যময় আবির্ভাব ও তাঁর সঙ্গে কাকলি শিবিরের ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, লোকসভায় তৃণমূল ভেঙে চৌচির। বিদ্রোহী ব্লক ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবে।
প্রসঙ্গত, ঠিক তার আগেরদিন, শনিবার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটের শাহি-সাক্ষাৎ সেরে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন। লোকসভায় ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২০ থেকে ২২ জন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। সরকারিভাবে বিদ্রোহী-সাংসদের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ২০। এমতাবস্থায় নেত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত হয়ে রয়ে গেছেন সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হাতে-গোনা কয়েকজন মাত্র। যদিও, তাঁরাও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এমনতিতেই রাজনীতি ‘সম্ভাবনার শিল্প’। এর উপর, ফিরহাদ হাকিম যদি মমতার হাত ছাড়তে পারেন, তাহলে কোনও ‘সম্ভাবনা’কেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।