তিনি লোকসভায় তৃণমূলের নেতা। তিনি আঞ্চলিক তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাই, দল লাটে ওঠে উঠুক, দলের তহবিল থেকে এমতাবস্থায় ১ টা টাকাও তোলা না-যায় না-যাক। কিন্তু, সূত্রের খবর অনুযায়ী, ‘সর...
তিনি লোকসভায় তৃণমূলের নেতা। তিনি আঞ্চলিক তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাই, দল লাটে ওঠে উঠুক, দলের তহবিল থেকে এমতাবস্থায় ১ টা টাকাও তোলা না-যায় না-যাক। কিন্তু, সূত্রের খবর অনুযায়ী, ‘সর্বভারতীয়’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গেলেন দলের খরচে চলা চার্টার্ড ফ্লাইটে চেপেই।
দিল্লি যাওয়ার হেতু কী, এখানে তা যত-না প্রাসঙ্গিক, তার চেয়েও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে কোন বাহনে চেপে দলের এই খরাক্রান্ত পরিবেশে রাজধানীতে অভিমুখে রওনা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বিদ্রোহী-২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই অন্য দলে গিয়ে ভিড়েছেন এবং ঘোষণা করেছেন লোকসভায় তাঁরা এনডিএ-কেই সমর্থন করবেন। এমতাবস্থায়, বাদল অধিবেশনের আগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করে অভিষেক দরবার করবেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল, যাঁরা দল থেকে বেরিয়ে এনসিপি-তে গেছেন, তাঁদের যাত্রাপথ যেন কুসুমাস্তীর্ণ না-হয়, বরং, কণ্টকাকীর্ণ হয়। অন্তত সূত্রের খবর তেমনটাই বলছে।
স্পিকারের সঙ্গে কতক্ষণ কথা হয়েছে বা হবে, কী কথা হয়েছে বা হবে, তা কতটা ফলপ্রসূ হবে আর কতটা অশ্বডিম্ব প্রসব করবে, এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, দলের এই ঘোর দুর্দিনে যদিও সত্যিই চাটার্ড ফ্লাইটে চেপে দিল্লি উড়ে যান অভিষেক, তা হলে তা ঘোর অনাচারের সামিল।
বাংলার কালীঘাট-তৃণমূলকে সোজা মাঠের বাইরে বার করে দিয়ে ঋতব্রত-তৃণমূল যেভাবে এগিয়ে চলেছে তা ইতিমধ্যেই নেত্রী ও তাঁর ভাইপোর কপালে ভাঁজ ফেলেছে। দলের কোষাধ্যক্ষ কে এবং কে নয়, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আইনি জটিলতা। যার মানে, ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি তহবিলে থাকলেও তার থেকে কানাকড়িও পাওয়া যাবে না এখন। আদালতে তার মীমাংসা হবে। সূত্রের খবর, দলের এই ঘোর দুর্দিনে সেনাপতি অভিষেক অশ্বমেধের রথ ভেবে চাটার্ড ফ্লাইটে দিল্লি গেলেন কোন আক্কেলে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধুনা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি, এই সেদিন অবধিও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে অভিষেক-পন্থী বলে পরিচিত কুণাল ঘোষ পর্যন্ত উষ্মা প্রকাশ করতে ছাড়েননি। কুণালের কথা, যাত্রীবাহী অনেক বিমান রয়েছে, অভিষেক তার কোনও একটাতে চেপে দিল্লি গেলে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু, দলের খরচায় চাটার্ড ফ্লাইটে চেপে রাজনৈতিক ফুটানি মারলে তা কখনওই কাম্য নয়।