খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের রাজনৈতিক দল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। গত বুধবার জিটিএ প্রধান অনীত থাপা খোদ দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল চর্চাও শুরু হয়...
খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের রাজনৈতিক দল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। গত বুধবার জিটিএ প্রধান অনীত থাপা খোদ দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল চর্চাও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল গুলোয়। এমতাবস্থায়, ফের ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাধারণ সদস্যপদ থেকে ১২ জন জিটিএ সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলে খবর সূত্রের।
জানা যাচ্ছ, অনীত থাপাকে অনুসরণ করেই এই পদত্যাগের ধুম শুরু হয়েছে জিটিএ-তে। এই বিষয়ে দার্জিলিং সদর ১ সমষ্টির সভাপতি এবং যুব শক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অমৃত ইয়মজোন দলের কর্মী-সমর্থকদের হতাশ না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, 'নেতৃত্ব মানে কেবল পদে টিকে থাকা নয়, বরং সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে এক ধাপ পিছিয়ে আসার সাহস দেখানোও। এই ঘটনাকে আমরা শেষ হিসেবে নয়, বরং নতুন কৌশলী যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখছি ।'
শুধু দার্জিলিং না, পদত্যাগের এই ট্রেন্ড আছড়ে পড়েছে কালিম্পং এবং কার্শিয়াং মহকুমাতেও। সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একের পর এক সদস্য পদত্যাগ করেছেন। কেউ কেউ আবার ছাব্বিশের নির্বাচনে জনাদেশ-কে মেনে নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। এমতাবস্থায়, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাহাড়ের প্রশাসনিক কাঠামো থেকে তৃণমূল স্তরের জনপ্রতিনিধিদের এই ব্যাপক পদত্যাগ পাহাড়ের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির পাহাড়ে যে বিপুল পরিমাণ সমর্থন পেয়েছে এবং জিটিএ-কে কার্যত অকার্যকর করার বার্তা দিয়েছে, তার চাপে পড়েই এই গণ-ইস্তফার ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
তবে এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের প্রশাসনিক ভবিষৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সেখানকার সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক শক্তি আগামীতে কোন দলের হাতে উঠবে তা নিয়েও বাড়ছে কৌতূহল।