ক্রমেই আলগা হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি সুরক্ষা। এবার পাঁচ বছরের পুরনো একটি মামলা থেকে সাংসদের গ্রেফতারি পরোয়ানার উপর স্থগিতাদেশ তুলে নিল মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। এক সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, বুধবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীর পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত না-থাকায় এবং মামলার সওয়াল না-হওয়ায়, আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চ অভিষেকের অন্তর্বর্তিকালীন আইনি সুরক্ষার মেয়াদ আর না বাড়িয়ে তা প্রত্যাহার করেন।
অভিযোগ, ২০২০ সালে ডায়মন্ড হারবারের একটি রাজনৈতিক জনসভা থেকে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের ছেলে মধ্যপ্রদেশের তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক আকাশের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক। বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে 'ভাইপো' সম্বোধন করা নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন তিনি বলেছিলেন, 'যে ভারতীয় জনতা পার্টি আমাকে বারবার ভাইপো বলে ডাকছে, তাদের সাহস থাকলে আমার নাম ধরে ডাকুক।' সঙ্গে বলেছিলেন, 'আমি তো নাম করে বলছি, কৈলাস বিজয়বর্গীয় বহিরাগত। আমি নাম করে বলছি, ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি দিলীপ ঘোষ গুন্ডা, মাফিয়া। আমি তো নাম করে বলছি, অমিত শাহ বহিরাগত, আমি তো নাম করে বলছি, সুনীল দেওধর বহিরাগত। আমি নাম করেই বলছি, কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয় গুন্ডা। আপনার ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন। আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দেখান।'
সেই মন্তব্যের পরেই ২০২১ সালে আকাশ ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে অভিষেকের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। কিন্তু শুনানিতে একাধিকবার অনুপস্থিত থাকার কারণে অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ভোপাল আদালত। এমতাবস্থায় সেই মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। আদালত সাময়িক ভাবে সেই গ্রেফতারি পরোয়ানার উপর স্থগিতাদেশ জারি করে।
কিন্তু বুধবার হাই কোর্টে এই মামলার শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় এবং মামলার কোনও সওয়াল-জবাব না হওয়ায় বিচারপতি প্রমোদকুমার আগরওয়ালের একক বেঞ্চ অভিষেকের অন্তর্বর্তিকালীন আইনি সুরক্ষার মেয়াদ আর না বাড়িয়ে তা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন।