ফ্রান্সে মোদী-ট্রাম্প বৈঠকে বড় কূটনৈতিক আশ্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ভারতের উপর আগামী দিনে কোনও হামলা হলে এবার থেকে নয়া দিল্লির পাশে আমেরিকাও থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্প এই বার্তা দিয়ে...
ফ্রান্সে মোদী-ট্রাম্প বৈঠকে বড় কূটনৈতিক আশ্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ভারতের উপর আগামী দিনে কোনও হামলা হলে এবার থেকে নয়া দিল্লির পাশে আমেরিকাও থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্প এই বার্তা দিয়ে আসলে চিনকেই হুঁশিয়ারি দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। পাশাপাশি ওই বৈঠকে ট্রাম্প মোদীকে 'অত্যন্ত সুপুরুষ' এবং 'দেবদূত' বলেও মন্তব্য করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
গত ১৫ জুন ফ্রান্সে এবারের জি৭ সম্মেলন শুরু হয়। ভারত জি৭-এর স্থায়ী সদস্য না হলেও, বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসাবে নিয়মিতভাবে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। এই বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ওই সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। পরে তাঁদের দু'জনের মধ্যে আলাদা বৈঠকও হয়। সেই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে দেন একরাশ আশ্বাস। বলেন, 'ভারতের নেতা যদি মোদী হন, আর তাঁর নেতৃত্ব চলাকালীনযদি সে দেশে হামলা হয়, তাহলে আমেরিকা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। দুই দেশের মধ্যে কোনও পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমেরিকা সাহায্য করতে পিছপা হবে না। তবে মোদী ছাড়া অন্য কেউ যদি নেতৃত্বে থাকেন, তাহলে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।
একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্পেরও প্রশংসা করেছেন মোদী। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী সচল রাখার গুরুত্ব উত্থাপন করে তিনি বলেছেন, 'অর্থনীতির জন্য হরমুজ অবিলম্বে খুলে যাওয়া প্রয়োজন। ওই জলপথে যাতে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নাবিকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।' তাঁর সংযোজন, 'সামুদ্রে বাণিজ্যের জন্য লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাবিক হরমুজ-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ব অর্থনীতির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই তাঁদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
সম্প্রতি ওমান উপকূলে আটকে থাকা একটি ভারতের পতাকাবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনা। যার জেরে মৃত্যু হয়েছিল তিন ভারতীয় নাবিকের। এছাড়াও আহত হন আরও কয়েকজন। সেই ঘটনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে তীব্র নিন্দা জানান হয়। পাশাপাশি সতর্ক থাকার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেই ঘটনার পর মোদী ও ট্রাম্পের বৈঠক থেকে কী বার্তা উঠে আসে তা নিয়ে বাড়ছিল কৌতূহল।