প্রথমে বিহার, পরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং তারও পরে, ২২ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যখন এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিহারে এসআইআর পর্ব শেষ হয়ে চূড়ান...
প্রথমে বিহার, পরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং তারও পরে, ২২ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যখন এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিহারে এসআইআর পর্ব শেষ হয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও বিধানসভার নির্বাচন পর্ব সমাপ্ত হয়েছে গতবছরেই। দ্বিতীয় দফায়, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ বাদে বাকি সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এমতাবস্থায় আরও ২২ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখন এসাআইআর-এর শুরুর অপেক্ষায়।
এই পরিস্থিতিতে, খুব তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেশের প্রতিটি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের মুখোমুখি বসতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবং ২৭ বছর বাদে। ১৯৯৯ সালে শেষ এইরকম বৈঠক হয়েছিল। তারপর কয়েকবছর বাদেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর কাজ। এরপর কেটে গিয়েছে আড়াই দশক। দেশজুড়ে ফের শুরু হয়েছে এসআইআর। এবং এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে এক অভূতপূর্ব সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের কথায়, 'এক্সট্রা অর্ডিনারি সিচুয়েশন', তাই 'এক্সট্রা অর্ডিনারি স্টেপ'। এ-দেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এই প্রথম কোনও রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে আদালতের নজরদারিতে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থার সঙ্গে একই বন্ধনীতে ফেলছে বিরোধী দল কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ উঠছে, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর রীতিনীতি অগ্রাহ্য করে, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে রাজ্যের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এমতাবস্থায়, ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বৈঠক রাজনৈতিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রায় ২৭ বছর পর ফের জাতীয় স্তরে এক টেবিলে বসতে চলেছে কেন্দ্র ও রাজ্যের নির্বাচন প্রশাসন। আগামী মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, নয়া দিল্লির ভারত মণ্ডপম-এ আয়োজিত হতে চলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) এবং বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্য নির্বাচন কমিশনারদের জাতীয় রাউন্ড টেবিল সম্মেলন। শেষবার এমন বৈঠক হয়েছিল ১৯৯৯ সালে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং ও বিবেক জোশী। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনী আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন আইন ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ইসিআই ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো। নিজনিজ আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করার পথ খোঁজা। প্রযুক্তি ভাগাভাগি, ইভিএম ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমন্বয় এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তোলা।