দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রীরা গুরুতর অপরাধে গ্রেপ্তার হয়ে যদি টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাঁদের পদে থাকা কঠিন হতে পারে। এমনই গুরুত...
দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রীরা গুরুতর অপরাধে গ্রেপ্তার হয়ে যদি টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাঁদের পদে থাকা কঠিন হতে পারে। এমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকা সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিল এবার সংসদের বাদল অধিবেশনে পাস হওয়ার পথে বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, আগামী ১৭ জুলাই বিলটি নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির (JPC) রিপোর্ট গ্রহণ করা হতে পারে। এরপর ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনেই বিলটি আলোচনা ও পাসের জন্য সংসদে তোলা হতে পারে।
সূত্রের দাবি, যৌথ সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে সেই বিতর্কিত বিধান বহাল রাখা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—যদি কোনও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকে, যার সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর বা তার বেশি হতে পারে, এবং তিনি টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের বিধান কার্যকর হতে পারে।
তবে একইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে এই আইনের অপব্যবহার যাতে না হয়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থার সুপারিশও রিপোর্টে থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তামিলনাড়ুর তৎকালীন মন্ত্রী ভি. সেন্থিল বালাজি গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় মন্ত্রিত্ব বজায় রেখেছিলেন। সেই ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতেই গত বছর সংসদে এই সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধীদের তীব্র আপত্তির মুখে বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়।
বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর নেতৃত্বে ৩১ সদস্যের ওই কমিটি বিলটি খতিয়ে দেখছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং ডিএমকে এই কমিটিতে অংশ নেয়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সংসদীয় সমীকরণে পরিবর্তনের ফলে সরকার এই বিল পাস করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করতে পারে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ, এটি একটি সংবিধান সংশোধনী বিল হওয়ায় লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে। ফলে বাদল অধিবেশনে এই বিলকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা প্রবল।