দিল্লিতে এআই সম্মেলনে 'নগ্ন' প্রতিবাদ করায় গ্রেফতার হয়েছেন যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব। তাঁকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান...
দিল্লিতে এআই সম্মেলনে 'নগ্ন' প্রতিবাদ করায় গ্রেফতার হয়েছেন যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব। তাঁকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।উদয়ের গ্রেফতারির নিন্দা করে রাহুল বলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা আমাদের অধিকার। আমাদের বব্বর শেরের পাশে আছি।”
ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির এআই সম্মেলনে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশি-বিদেশি বহু অতিথি এবং বক্তা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ থেকে শুরু করে চ্যাটজিপিটি প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান-সকলেই ছিলেন ওই সম্মেলনে। সেখানেই প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেন কয়েকজন।
এআই সম্মেলনে অর্ধনগ্ন হয়ে প্রতিবাদের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই ঘটনায় উদয়ও জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ। পুলিস সূত্রে খবর, অর্ধনগ্ন প্রতিবাদের অভিযোগে থানায় ডেকে জেরা করা হয় উদয়কে। অন্তত ১৫ ঘণ্টা ধরে চলে প্রশ্ন উত্তরের পালা। পুলিসের অভিযোগ তদের জেরায় সহযোগীতা করেননি উদয়। এমনকি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও করেছ বলে অভিযোগ পুলিসের। এরপরই উদয়কে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়।
পুলিসের এই পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী প্রবণতা এবং কাপুরুষতার লক্ষণ’বলে মন্তব্য করেছেন রাহুল। উদয়ের গ্রেফতারির নিন্দা জানিয়ে তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘যুব কংগ্রেস সভাপতি উদয় এবং অন্যান্যরা দেশের সামনে সত্য তুলে ধরেছেন। কমরেডদের গ্রেফতারি স্বৈরাচারী প্রবণতা এবং কাপুরুষতার প্রমাণ।’ রাহুল আরও লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আমাদের ঐতিহ্য। এটি আমাদের রক্তে মিশে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ প্রতিটি ভারতীয়ের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি যুব কংগ্রেসে আমার বব্বর শের কমরেডদের জন্য গর্বিত। দেশের স্বার্থে তাঁরা আপোস করা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে তাঁদের আওয়াজ তুলেছেন।’উল্লেখ্য, ‘নরেন্দ্র মোদী কমপ্রোমাইজড’ লেখা টি-শার্ট খুলে আদুল গায়েই বিক্ষোভ চলে সম্মেলনে। সেখানে উপস্থিত আমজনতার একাংশ -এর প্রতিবাদ জানালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে পুলিস বিক্ষোভকারীদের আটক করে। পরের দিনই দিল্লি পুলিস দাবি করে, যুব কংগ্রেস কর্মীদের এহেন প্রতিবাদের নেপথ্যে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে।
ঘটনার পরদিন পুলিস গ্রেফতার করতে শুরু করে। আদালতে তদন্তকারীদের বক্তব্য, “নেপালে যে জেন জি আন্দোলন হয়েছিল, তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই বড় ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। অনেক ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও সংগ্রহ করা দরকার। এটা ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।” এই প্রতিবাদকে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও। স্পষ্ট বলেন, ” আপনারা তো নগ্নই, নতুন করে জামা খোলার কি প্রয়োজন ছিল?” যুব কংগ্রেসের এহেন আচরণের প্রতিবাদ করেছে ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য দলগুলিও। দিল্লির ওই সম্মেলন নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে গিয়ে যেভাবে বিদেশি অতিথিদের সামনে নিজেদের তুলে ধরা হয়েছে, তা দেশের পক্ষে অত্যন্ত অপমানজনক, মেনে নিচ্ছে বিরোধী শিবির।