শিক্ষকসমাজ জাতির মেরুদণ্ড। তাদের হাতেই পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষৎ। কিন্তু পড়ানোর কাজ ছেড়ে এখন তাদের এসআইআর -এর কাজ করতে হচ্ছে। শিশুদের উৎকর্ষ শিক্ষা প্রদানের বদলে , অমানবিক চাপের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমি...
শিক্ষকসমাজ জাতির মেরুদণ্ড। তাদের হাতেই পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষৎ। কিন্তু পড়ানোর কাজ ছেড়ে এখন তাদের এসআইআর -এর কাজ করতে হচ্ছে। শিশুদের উৎকর্ষ শিক্ষা প্রদানের বদলে , অমানবিক চাপের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া কাজ করতে হচ্ছে । বিএলও -দের দাবি ফোনে যে অ্যাপের মাধ্যমে তাদের কাজ করতে হচ্ছে সেই অ্যাপের ব্যবহার অনেকেই জানেন না। ফলে তদের মধ্যে অত্যাধিক মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মত্যুবরণও করেছেন অনেকেই। বিএলও -দের মধ্যে তাই দিন দিন ধরে বাড়ছে অসন্তোষ। রাজ্যের দিকে দিকে তারা পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এবার শুক্রবার দুপুরে হাতে প্লাকার্ড নিয়ে রামপুরহাট ১ব্লকের সামনে বিক্ষোভে সামিল হল সেখানকার বিএলওরা। প্লাকার্ড হাতে তারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি তারা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও ধিক্কার জানিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাদের দাবি, স্কুলের কাজ করে তারা এই কাজ করছেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পর যে সব ফর্ম মিস ম্যাচ বা অন্য কোনও কারনে ভুল থেকে গিয়েছে সেই গুলো আবারও সংশোধন করার জন্য তাদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। ফলে এবার থেকে এই বাড়তি কাজ তারা আর করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
এই দাবি নিয়ে তারা ব্লক আধিকারিকের কাছে স্বারক লিপিও জমা দেয়। প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার বিএলও রা অতিরিক্ত কাজ করানোর প্রতিবাদে দুবরাজপুর ও সিউড়ি ১ব্লকেও বিক্ষোভ দেখিয়েছিল।
এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার দিন পেরিয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশ-সহ ছ’রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে সময়সীমা বাড়ানো হয়নি। বিএলও দের দাবি এক্ষেত্রে বাংলাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করছেন তাদের কাছে অনেক মানুষ আসছেন, যাঁদের ফর্ম ফিল আপ এখনও পর্যন্ত হয়নি। নতুন নতুন অপশন কমিশনের তরফ থেকে তৈরি করা হচ্ছে। বিএলও-দের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
অন্যদেকে যে বিএলওদের মত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত তা নিয়েও কমিশনের কোনও হেলদোল নেই। অথচ কমিশনের তরফ থেকে নিত্যনতুন নিয়ম জারি করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বিএলও-দের ওপর যে প্রচণ্ড চাপ রয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টেও মান্যতা পেয়েছে। সেক্ষেত্রে বিএলও-দের সহায়তা করার জন্য কমিশনকেই বিকল্প পন্থা গ্রহণ করতে পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিএলও-দের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তরফ থেকে মৃত বিএলও-দের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও, এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফ থেকে কোনও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এসআইআর নিয়ে বিএলও দের ক্ষোভ বিক্ষোভ উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।