সন্তানের সামনে স্ত্রীকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির কোন্নগরের কানাইপুর মাতৃমন্দির এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত স্বামী প্রসেনজিৎ বারুই...
সন্তানের সামনে স্ত্রীকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির কোন্নগরের কানাইপুর মাতৃমন্দির এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত স্বামী প্রসেনজিৎ বারুইকে অস্ত্র-সহ গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিস। পুলিস সূত্রে খবর, ২ এমএম পিস্তল দিয়ে ওই গৃহবধূর গলায় গুলি করেছে। জেরায় অভিযুক্ত এক এক সময়ে এক এক রকম দাবি করেছেন বলে পুলিসের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে দশ দিনের পুলিসি হেফাজত চেয়ে শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করা হয়।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, আচমকাই প্রসেনজিতের ঘর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা। গুলির শব্দে পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন প্রসেনজিতের বাবা পরিমল বারুই। তিনি দেখেন বৌমার গলার কাছ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তড়িঘড়ি ২২ বছরের মৈত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কোন্নগর কানাইপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুধবার রাতেই প্রসেনজিৎকে আটক করে উত্তরপাড়া থানার পুলিস। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ বারুই পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। প্রথমে সে দাবী করেছিল আগ্নেয়াস্ত্র কুড়িয়ে পেয়েছে। পরে আবার জেরা করায় সে বলে মাস কয়েক আগে একটি বাড়িত কাজ করতে গিয়ে সেখানেই ওই পিস্তলটি পেয়েছে। বুধবার আগ্নেয়াস্ত্রটি নিয়ে দেখতে গিয়ে আচমকাই ঘটনাটি ঘটেছে। সে ক্ষেত্রে কোন দাবিটি সত্যি, সেটি তদন্ত করে দেখছে পুলিস। পাশাপাশি তাঁদের দাম্পত্য জীবন কেমন ছিল, তা-ও পুলিসের তদন্তের আওতায় রয়েছে। অভিযুক্তের কোনও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিস সূত্রে খবর।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর সাতেক আগে প্রেম করে মৈত্রীকে বিয়ে করেন প্রসেনজিৎ। মৃতার শ্বশুর পরিমল বারুই এর দাবী, ছেলে বৌমার সুখি সংসার ছিল। কী ভাবে এমন অঘটন ঘটল তা তদন্ত করতেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে মৈত্রী ও প্রসেনজিতের মোবাইল ফোন। ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।