ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে গেল ছেলেটা। কিচ্ছু করতে পারলেন না বাবা। ছেলের অবস্থা সংকটজনক শুনেও বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ তুললেন ছেলেহারা বাবা। মৃত্যুর সময় মুখ থেকে গ্যাঁজলা বেরোতে শুরু...
ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে গেল ছেলেটা। কিচ্ছু করতে পারলেন না বাবা। ছেলের অবস্থা সংকটজনক শুনেও বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ তুললেন ছেলেহারা বাবা। মৃত্যুর সময় মুখ থেকে গ্যাঁজলা বেরোতে শুরু করে বছর ২৪ এর ছেলের। শেষকৃত্য সেরে এবার ছেলের মৃত্যুর বিচার চাইছেন নদিয়া নদিয়ার রাণাঘাট ২ নং ব্লকের গাংনাপুর থানার আইসমালি বেলেহাটি পাড়ার বাসিন্দা জ্যোতিষ বিশ্বাস।
সোমবার জ্বর নিয়ে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বছর ২৪-এর নন্দ বিশ্বাসকে। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে কার্যত বিনা চিকিৎসায় তাঁকে ফেলে রাখা হয়। দেখতে যায়নি কোনও নার্স, কোনও চিকিৎসকেরা। দেওয়া হয়নি ন্যূনতম স্যালাইন। বৃহস্পতিবার নন্দর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই তাঁর মৃত্যু হয়।\r\n
আরজি করে কাদম্বিনী হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন ৫ সপ্তাহ পার করেছে। এরই মাঝে বিনা চিকিৎসায় নাকি ২৯ জন মারা গিয়েছেন বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার নদিয়ার নন্দর মৃত্যুর বিচার চাইছে তাঁর বাবা। তাঁর অভিযোগ, ছেলেকে দেখতে চেয়ে কাতর আর্জির পরেও জানানো হয়েছে, সময় মতো দেখা হবে! বড় নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে তাঁদের তরফে। কিন্তু আর্থিক সচ্ছলতা থাকলে কি আর সরকারি হাসপাতালে যেতে হতো মানুষকে? এক জনের মৃত্যুর বিচার চেয়ে আর এক জনকে কি খুন করা উচিত?
বৃহস্পতিবার ধরনামঞ্চের কাছে পৌঁছন খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জুনিয়র চিকিৎসকদের কাছে কাজে ফেরার আর্জি জানান তিনি। কিন্তু কাদম্বিনী মৃত্যুর বিচার না মেলা পর্যন্ত কোনও ভাবেই নিজেদের দাবি থেকে সরতে নারাজ জুনিয়র ডাক্তাররা। কিন্তু কোথায় সমাধান? চিকিৎসকদের ৫ দফা দাবি না পূরণ হলে কোন দিকে গড়াবে জল?