ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহেই বাংলাদেশে জন্ম নিতে চলেছে আরেকটি নতুন রাজনৈতিক দল। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন রাজনৈতিক দলের প্রধান হতে চলেছেন মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদ...
ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহেই বাংলাদেশে জন্ম নিতে চলেছে আরেকটি নতুন রাজনৈতিক দল। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন রাজনৈতিক দলের প্রধান হতে চলেছেন মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তবে সরকারে বসে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হলে তা মানবে না বিএনপি, আগে ভাগে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে খালেদা জিয়ার দল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির সাংবাদিকদের জানান 'বিএনপি সবসময় নতুন কোনো রাজনৈতিক দলকে স্বাগত জানায়। যে কেউ নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করে মানুষের রায় পেতে নির্বাচনে অংশ নিতেই পারেন, কিন্তু সরকারে বসে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা নিয়ে নতুন দল গঠন মেনে নেওয়া হবে না'। বাংলাদেশে নির্বাচন করা নিয়ে অন্তর্বর্তী ইউনূস প্রশাসনের আদৌ কোনো সদিচ্ছা আছে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন 'একটা ক্রান্তিকালের মধ্যে আমরা আছি। পুরো দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক পথে ফিরতে চায়। সন্দেহ হচ্ছে সরকার আদৌ নির্বাচন করাতে আন্তরিক কিনা'।
এদিকে সূত্রের খবর, নতুন রাজনৈতিক দলের প্রধান হলে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন নাহিদ ইসলাম। তবে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করা নিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই মতভেদ স্পষ্ট। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ সমন্বয়ক রিফাত রশিদ জানান 'বৈযম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। কেউ নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে চাইলে সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে তাঁকে'।
নতুন রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় পদাধিকারী কে হবেন তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। নিজেদের মধ্যেই ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে ফাটল। নতুন দলটিতে কেবল ছাত্র নেতারাই থাকবেন না অভিজ্ঞ প্রবীনদেরও ঠাঁই হবে তা নিয়েও ধোঁয়াশা স্পষ্ট। রাজনৈতিক দলটির লক্ষ্য, আদর্শ, গঠনতন্ত্র কেমন হবে তাও স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর নতুন রাজনৈতিক দলটি তাদের গঠনতন্ত্রে মধ্যপন্থার উপর জোর দিচ্ছে। পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক ই ইনসাফ, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি এবং তুরস্কের রিচেপ এর্দোয়ানের পার্টির আদলে গড়ে তোলা হবে নতুন এই রাজনৈতিক দলটিকে। যাদের স্লোগান হবে 'স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট'। সেই লক্ষ্যে জোরকদমে চলছে আসন্ন রাজনৈতিক দলটির সংবিধান রচনার কাজ। দল যেমনই হোক ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রমনা ময়দানে তা ঘোষণা করা হবে বলে প্রায় নিশ্চিত ছাত্র নেতারা। বাংলাদেশে নতুন এই রাজনৈতিক দল কতটা আঁচড় কাটতে পারবে তার উত্তর দেবে ভাবিকালই।