৫০ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার ভুট্টোর সময়ে পাকিস্তানে মদ নিষিদ্ধ হয়েছিল। মদ হারাম, এই যুক্তিকে খাড়া করে দেশ জুড়ে মদের উপর কড়াকড়ি করেছিল তৎকালীন সরকার। কিন্তু বর্তমানে সময় পাল্টেছে। এখন দেন...
৫০ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার ভুট্টোর সময়ে পাকিস্তানে মদ নিষিদ্ধ হয়েছিল। মদ হারাম, এই যুক্তিকে খাড়া করে দেশ জুড়ে মদের উপর কড়াকড়ি করেছিল তৎকালীন সরকার। কিন্তু বর্তমানে সময় পাল্টেছে। এখন দেনার দায়ে হাঁসফাঁস অবস্থা শাহবাজ সরকারের। তাই হারাম ভুলে দেনা মেটাতে সেই মদ বিক্রিতেই জোর দিচ্ছে তারা। তথ্যের দাবি অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে ব্রিটেন, জাপান, পর্তুগাল, থাইল্যান্ডের একাধিক দেশে ইতিমধ্যেই বিয়ার-সহ অন্যান্য মদ রপ্তানি করেছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা 'মুরে ব্রেয়ারির' ম্যানেজার রমিজ শাহ বলেন, 'শুরুতে আমরা বিদেশে আমাদের নেটওয়ার্ক তৈরি করছি। ভবিষ্যতে আমাদের উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে।' একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে পাকিস্তানের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ফারাক বেড়েছে। ২০২৬ অর্থবর্ষে পাক সরকারের আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধু ঋণ মেটাতেই চলে গিয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার। এদিকে তথ্য বলছে এই মুহূর্তে পাকিস্তানের মোট খরচ ১৩৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধুমাত্র সরকারি ঋণ দিতে হয় ৯২ বিলিয়ন ডলার। এক কথায় সবদিক থেকে চাপে পড়েই মদ বিক্রির পথে হাঁটতে শুরু করেছে পাক সরকার।
বলে রাখা ভালো, ১৯৭৭ সালে প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার ভুট্টোর সময়ে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ হয়েছিল পাক ভূমিতে। সেই সময় সরকারের বিরোধিতা করে দেশ জুড়ে আন্দোলন শুরু করেছিল সেখানকার সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি ছিল, ইসলামি রীতি মেনে দেশে মদ, নাইট ক্লাব, পানশালাগুলি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। পরে বিক্ষোভের চাপে পড়ে জিয়াউল হক এই আইনকে আরও কঠোর করেন।