বাংলায় প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মোদী-শাহের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। এদিন এই মঞ্চেই প্রধানমন্ত্রীকে দেখা...
বাংলায় প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মোদী-শাহের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। এদিন এই মঞ্চেই প্রধানমন্ত্রীকে দেখা গেল এক বৃদ্ধার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে। আলিঙ্গনও করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কে এই বৃদ্ধা? যার পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। ইনি হলেন ৯২ বছরের মাখনলাল সরকার। যিনি বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাশ্মীর যাত্রার সঙ্গী ছিলেন। জেল খেটেছিলেন। শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতি আগলে এতদিন তিনিও বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের অপেক্ষায় ছিলেন।
মাখনলাল বাবুর বাড়ি শিলিগুড়ি। তিনি ডাবগ্রাম সূর্যনগর এলাকায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বঙ্গে বিজেপির প্রতিষ্ঠা হওয়ার গোড়া থেকেই তিনি ছিলেন। শুধু ছিলেন বলা ভুল, অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কাশ্মীর নিয়ে টানাপোড়েন, অশান্তি যখন শুরু হয়, তখন পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ১৯৫২ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গ দিয়েছিলেন এই মাখনলাল সরকার। ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে আন্দোলন করার কারণে গ্রেফতার হতে হয়েছিল দু'জনকেই।
এরপর দীর্ঘ জেলযাত্রা কাটিয়ে ছাড়া পেয়েছিলেন মাখনলাল বাবু। বাংলায় ফিরে ফের আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠিত হওয়ার পর, মাখনলাল সরকার দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক সমন্বয়কারী হন। মাত্র ১ বছরের মধ্যেই তিনি প্রায় ১০ হাজার সদস্যকে দলে টেনেছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি একটানা সাত বছর জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যা তৎকালীন সময়ে দলের শ্রীবৃদ্ধিতে ব্যাপক সাহায্য করেছিল। আজ এত বছর পর অবশেষে স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর হওয়ায় আবেগবিহ্বল হয়ে পড়েন নবতিপর বৃদ্ধ।