আর ৭২ ঘণ্টাও হাতে সময় নেই। শুক্রবার ঢাকার রমনা ময়দানে ঘোষণা হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক দলের। এই আবহে চরম উত্তেজনায় কাঁপছে বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজ। এর সঙ্গে কোথায় লাগে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ বা ইন্ডি...
আর ৭২ ঘণ্টাও হাতে সময় নেই। শুক্রবার ঢাকার রমনা ময়দানে ঘোষণা হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক দলের। এই আবহে চরম উত্তেজনায় কাঁপছে বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজ। এর সঙ্গে কোথায় লাগে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ বা ইন্ডিয়া-পাকিস্তান একপেশে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উত্তেজনা! ঢাকার চারপাশে একটা যুদ্ধ জয়, যুদ্ধ জয়ের আমেজ। শোনা যাচ্ছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন রাজনৈতিক দলের প্রধান হতে চলেছেন মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তবে সরকারে বসে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হলে তা মানবে না বিএনপি, আগে ভাগে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে খালেদা জিয়ার দল। এদিকে সূত্রের খবর নতুন রাজনৈতিক দলের প্রধান হলে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন নাহিদ ইসলাম।
তবে নতুন রাজনৈতিক দলের নাম কী হচ্ছে, আর কে কে শীর্ষ পদে থাকছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তা ঠিক করতে রাতদিন দফায় দফায় বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজ এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব। জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আবার গোয়েন্দা গল্পের সাসপেন্সের মতন এখনই রাজনৈতিক দলের নাম এবং শীর্ষ পদে কারা কারা থাকবেন তা জানাতে নারাজ। তার একটাই বক্তব্য 'শুক্রবার দল গঠনের ঘোষণার সময়ই সবাই সমস্ত কিছু জানতে পারবেন'। সূত্রের খবর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই মতভেদ স্পষ্ট। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ সমন্বয়ক রিফাত রশিদ জানান 'বৈযম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। কেউ নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে চাইলে সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে তাঁকে'।
নতুন রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় পদাধিকারী কে হবেন তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। নিজেদের মধ্যেই ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে ফাটল। নতুন দলটিতে কেবল ছাত্র নেতারাই থাকবেন না অভিজ্ঞ প্রবীনদেরও ঠাঁই হবে তা নিয়েও ধোঁয়াশা স্পষ্ট। রাজনৈতিক দলটির লক্ষ্য, আদর্শ, গঠনতন্ত্র কেমন হবে তাও স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর নতুন রাজনৈতিক দলটি তাদের গঠনতন্ত্রে মধ্যপন্থার উপর জোর দিচ্ছে। পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক ই ইনসাফ, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি এবং তুরস্কের রিচেপ এর্দোয়ানের পার্টির আদলে গড়ে তোলা হবে নতুন এই রাজনৈতিক দলটিকে। যাদের স্লোগান হবে 'স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট'। সেই লক্ষ্যে জোরকদমে চলছে আসন্ন রাজনৈতিক দলটির সংবিধান রচনার কাজ।
দল যেমনই হোক, নাম যাই হোক ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুম্মাবারের নামাজের শেষে ঢাকার রমনা ময়দানে তা ঘোষণা করা হবে বলে জানাচ্ছেন ছাত্র নেতারা। বাংলাদেশে নতুন এই রাজনৈতিক দল কতটা আঁচড় কাটতে পারবে তার উত্তর দেবে ভাবিকালই।