বিশ্ব জুড়ে ‘সংসদীয় বন্ধুত্ব’ গড়ার সেতুবন্ধন করবেন ভারতীয় সাংসদরা। এমনই নয়া সিদ্ধান্ত সংসদের অধ্যক্ষ ওম বিড়লার। বাজেট অধিবেশনে যখন বিরোধী সাংসদরা অধ্যক্ষ ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে সরগরম হয়েছে সংসদ , ওম বিড়লার অপসারণের দাবি তুলে সরব হয়েছে, ঠিক তখনই ওম বিড়লার এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনসভার সঙ্গে সম্পর্ক ও আলোচনার মধ্য দিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই একাধিক সাংসদের নিয়ে দল ঘঠন করেছেন তিনি। ভারত ইতিমধ্যেই ৬০টি দেশের সঙ্গে 'সংসদীয় বন্ধুত্ব'করেছে।আর সেই বন্ধুত্বকে আরও জোরদার করার সেতু হবেন সাংসদরা।
কারা থাকছেন ‘সংসদীয় বন্ধুত্ব’গোষ্ঠীর নেতৃত্বে?
সূত্রের খবর এই দলের নেতৃত্ব দেবেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও রয়েছেন তৃণমূলের পক্ষ থেকে থাকবেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন। কংগ্রেসের পি চিদম্বরম, কেসি বেনুগোপাল, গৌরব গগৈ, শশী তারুর ।সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, এআইএমআইএমের আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, শিব সেনা (উদ্ধব ঠাকরে) দলের অরবিন্দ সওয়ন্ত, এনসিপি (শরদ পাওয়ার) দলের সুপ্রিয়া সুলে থাকবেন সাংসদদের বিভিন্ন প্যানেলের নেতৃত্বের ভূমিকায়।
সূত্রের খবর পর্তুগালের জন্য নির্দিষ্ট কমিটির নেতৃত্ব দেবেন বেনুগোপাল। ইতালির জন্য গঠিত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন চিদম্বরম, ফিলিপিন্স প্যানেলের নেতৃত্বে থাকছেন গগৈ। অনুরাগ ঠাকুর, নিশিকান্ত দুবে, রবি শঙ্কর প্রসাদ, বৈজয়ন্ত পন্ডা-সহ ৩০ জন বিজেপি সাংসদ থাকবেন বিভিন্ন প্যানেলের চেয়ারপার্সনের ভূমিকায়। জানা গিয়েছে, রবিশঙ্কর, নিশিকান্ত, বৈজয়ন্ত ও অনুরাগ যথাক্রমে নেতৃত্ব দেবেন ইজ়রায়েল, রাশিয়া, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের জন্য গঠিত কমিটির। অখিলেশ নেতৃত্ব দেবেন অস্ট্রেলিয়া সংক্রান্ত কমিটির।বাজেট অধিবেশনে বরখাস্ত হওয়া সাংসদেরাও আছেন বিভিন্ন প্যানেলে। কংগ্রেসের প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, কিরণ কুমার রেড্ডি, মনিকম টেগোর, গুরজিৎ সিংহ আউজলা সদস্য হিসাবে থাকছেন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইতালির প্যানেলে। সিপিএমের এস ভেঙ্কটেশন থাকছেন কিউবা প্যানেলে।
কোন কোন দেশ রয়েছে এই গ্রুপে?
যে সব দেশের সঙ্গে সংসদীয় বন্ধুত্ব গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, নিউ জ়িল্যান্ড, সুইজ়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভুটান, সৌদি আরব, ইজ়রায়েল, মালদ্বীপ, আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, ইতালি, ওমান, অস্ট্রেলিয়া, গ্রীস, সিঙ্গাপুর, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-সহ মোট ৬০টি দেশ।
কী জন্য এই গোষ্ঠী গঠন ?
বিভিন্ন দেশের আইন প্রণেতাদের সঙ্গে সরাসরি বার্তালাপ, আইন প্রণেতাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার জন্য এবং নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা জন্যেই এই ‘বন্ধুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী’ গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি দেশের সঙ্গেই ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতেও এই গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে জানানো হয়েছে। সংসদীয় পদ্ধতির বাইরেও এই গোষ্ঠী বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সামাজিক নীতি, সংস্কৃতি এবং গণতন্ত্রের জন্য বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলির উপর আলোচনার করবে।
জানা গিয়েছে সংসদীয়, আইন ও কূটনীতি ছাড়াও প্রযুক্তি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্বের কাছে প্রতিনিধিত্ব করবেন ভারতের নির্বাচিত এই সাংসদেরা।
সূত্রের খবর, বিভিন্ন দেশের কাছে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মোট ৬৪টি প্যানেল তৈরি করা হবে। সেখানে থাকবেন বিরোধীরাও। প্রতিটি প্যানেলে ১১ জন করে সাংসদ থাকবেন। প্রত্যেকটি প্যানেলে অবশ্যই অন্তত এক জন মহিলা সাংসদ রাখতে হবে বলেও জানান হয়েছে।