ফের ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধ হুমকির বাতাবরণ তো রয়ে...
ফের ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধ হুমকির বাতাবরণ তো রয়েছেই। ফলে সব মিলিয়ে যথেষ্ট উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেখানে। এমতাবস্থায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সেখানে সতর্কতা জারি করেছে তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস। সে দেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জরুরি নম্বরও চালু করেছে ভারতীয় দূতাবাস।
গত ১৪ জানুয়ারি ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে উদ্ভুত পরিস্থিতির উপর পর্যালোচনা করে প্রথম বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। সোমবার সেই পুরনো পরামর্শই ফের একবার নতুন করে স্মরণ করানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাবতীয় পরিচয় পত্র, নথি, পাসপোর্টও সমসময় হাতের কাছে রাখতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ইরানে থাকা ভারতীয়দের আরও বলা হয়েছে, যে কোন প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করতে পারবেন তাঁরা। এমনকি ওই ভারতীয় নাগরিকদের নিজেদের নাম-পরিচয় দূতাবাসের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করার অনুরোধও জানান হয়েছে। তবে ইন্টারনেট পরিষেবার সমস্যার কারণে যদি নাম নথিভুক্ত করতে কোন সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে ভারতে থাকা তাঁদের পরিবারকে দিয়ে তা করানোর আর্জি জানা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, গত শনিবার ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নতুন সেমেস্টার শুরু হয়েছে। আর ওইদিন থেকেই দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয় একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরমধ্যেই তেহরানের শরিফ ইউনভার্সিটির ক্যাম্পাসে একদল পড়ুয়ার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে খামেনেইপন্থী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে ছাত্র বিক্ষোভের শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা ইরানের ধর্মীয় শাসন এবং খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ নেয়। সেই সময় বিক্ষোভ প্রতিহত করতে কঠোর হাতে ময়দানে নামে প্রশাসন। কঠোর দমননীতির কারণে আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।