সম্প্রতি আইসিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। দুই দল ছাত্রের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে জখম হন দুই অধ্যাপক। এবার এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা নিয়ে বিশ...
সম্প্রতি আইসিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। দুই দল ছাত্রের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে জখম হন দুই অধ্যাপক। এবার এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা নিয়ে বিশেষ তৎপর হল কর্তৃপক্ষ। যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে একগুচ্ছ নিয়ম বেঁধে দেওয়া হল বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। সেগুলি হল-
১. সন্ধ্যা ৭:০০ টা থেকে সকাল ৭:০০ টা পর্যন্ত যেকোনো উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক সকল ব্যক্তিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত বৈধ পরিচয়পত্র বহন করতে হবে। যা প্রয়োজন অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট থেকেও পাওয়া যাবে। তবে যদি কোন ব্যক্তির কাছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত পরিচয়পত্র না থাকে, তাহলে তাকে অন্য কোন বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে রাখা একটি রেজিস্টারে যার সঙ্গে তিনি দেখা করতে যাচ্ছেন তার বিবরণ (উল্লিখিত ব্যক্তির যোগাযোগ নম্বর সহ) লিখতে হবে।
২. এবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য দুই চাকা বা চার চাকার যানবাহনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জারি করা 'জাবি' পার্কিং স্টিকার লাগাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার-বিহীন যানবাহন প্রবেশের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে ক্যাম্পাসে ঢোকার কারণ জনাতে হবে।
৩. ক্যাম্পাসে কোনভাবেই মাদকদ্রব্য বা অন্যান্য অবৈধ পদার্থের ব্যবহার বা যেকোনো অবৈধ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যদি কেউ এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে, তাহলে ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪. সকাল ও সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে জনসাধারণের যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহারের উপর কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
৫. পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাত ৮টার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে (যেমন বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ, ক্যান্টিনে, সুবর্ণ জয়ন্তী ভবনের বিপরীতে ইত্যাদি) সান্ধ্যকালীন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের ছাড়া অন্য কোনও দলবদ্ধ সমাবেশ করা যাবে না। তবে উৎসব এবং অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রী কার্যকলাপের সময় শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই নিয়মে রাশ টানা যেতে পারে।
৬. বৈধ কারণ ছাড়া অথবা রাত ৮টার পরে অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে কাউকে পাওয়া গেলে তাকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
৭. নিরাপত্তা কর্মীদের প্রতি যেকোনো ধরণের অসদাচরণ, ভীতি প্রদর্শন বা অসম্মানজনক আচরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুরুতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও একাধিকবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যর্থতা খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল। সেই সময়েই জরুরীকালীন ভিত্তিতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কর্তৃপক্ষের তরফে। কিন্তু তা কেবল খাতায়-কলমেই রয়ে গেছে। বাস্তবে যার প্রতিফলন তেমন দেখা যায়নি। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জারি করা নয়া নির্দেশিকা কতদূর মেনে চলা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।