সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার পার্টি অফিস ভাঙার উপর স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যালয় ভাঙার কাজ বন্ধ রাখতে হবে। নতুন করে পদক্ষেপ করা যাবে না। এছাড়া এই বা...
সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার পার্টি অফিস ভাঙার উপর স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যালয় ভাঙার কাজ বন্ধ রাখতে হবে। নতুন করে পদক্ষেপ করা যাবে না। এছাড়া এই বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি।
শনিবার অভিষেকের আমতলায় পার্টি অফিসে বে-আইনি নির্মাণের অভিযোগে বুলডোজার চালানো হলে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন সাংসদ। কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, 'পার্টি অফিস মন্দিরের মতো, এই জায়গা কিনে পার্টি অফিস হয়েছে। সমস্ত নথিপত্র আছে। সব আগে হাই কোর্টে জমা দেব। আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টে যাব এটা নিয়ে। শেষ দেখে ছাড়ব।'
অভিযোগ, বৈধ প্ল্যান এবং নথি ছাড়াই এই অফিস নির্মাণ হয়েছে। প্রশাসনের তরফে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও কোনও বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি বলে জানা গিয়েছে। এরপরই শনিবার কার্যালয় ভাঙার কাজ শুরু হয়। ৩ টে বুলডোজার দিয়ে চলে অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ।
শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলা এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ৩০ জুন প্রথম নোটিস পাঠানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে। পরে ৭ জুলাই দ্বিতীয় নোটিসও দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ১৫ জুলাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, কোনও নোটিসেরই উত্তর দেওয়া হয়নি এবং নির্ধারিত দিনেও হাজিরা দেওয়া হয়নি। এরপরই প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নেয়।
শনিবারের ঘটনাকে ঘিরে আমতলা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড়ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শনিবার সকাল থেকে কার্যালয় চত্বরে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। গোটা এলাকা গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছিল। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।