বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল: অনুপ্রবেশহীন বাংলা। দলের হয়ে প্রচারে এসে প্রায় প্রতিটি জনসভা থেকেই অনুপ্রবেশ-প্রশ্নে রাজ্যের তৎকালীন শাসকদলকে নিশানা করেছিলেন অমিত শাহ। এবং সেইসঙ্গে, বিজ...
বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল: অনুপ্রবেশহীন বাংলা। দলের হয়ে প্রচারে এসে প্রায় প্রতিটি জনসভা থেকেই অনুপ্রবেশ-প্রশ্নে রাজ্যের তৎকালীন শাসকদলকে নিশানা করেছিলেন অমিত শাহ। এবং সেইসঙ্গে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ-শূন্য বাংলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জমি অধিগ্রহণ না-করায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিস্তীর্ণ অঞ্চল কাঁটাতারবিহীন ও অরক্ষিত হয়ে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বাংলায় পালাবদল হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে বিএসএফ কর্তাকে আশ্বাস দেন, উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার দিতে দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এবং, এরপরই শুরু হয় অধিগ্রহণ-পর্ব।
এমতাবস্থায়, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে শোনা যায়: স্মার্ট বর্ডার (SMART BORDER)। শুধু ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তই নয়, দেশের অন্য সীমান্তেও চালু করা হয়, সিআইবিএমএস (Comprehensive Integrated Border Management System )। যার অর্থ, শুধু প্রথাগত টহলদারি নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক সেন্সর, অ্যান্টিড্রোন প্রযুক্তি, জ্যামার। সবকিছুর মাধ্যমেই নজরদারি চলবে। সুড়ঙ্গপথে জঙ্গিদের যাতায়াত এবং অস্ত্র ও মাদক পাচার রুখতে মাটির ওপর পাতা হবে ফাইবার অপটিক। অনুপ্রবেশ রুখতে প্রথাগত টহলদারি যেমন চলছে তেমন চলবে, কিন্তু সেই সঙ্গে চলবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির টহলদারিও। সীমান্তে রেডিয়োভিত্তিক বেড়ার পরিকল্পনাও তার মধ্যে পড়ছে। কেউ সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করলেই স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাবেন টহলদারি জওয়ানরা। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে সামগ্রিকভাবে মানুষ ও প্রযুক্তির এই নজরদারিকেই স্মার্ট বর্ডার (SMART BORDER) বলা হচ্ছে।
বঙ্গসফরে এসে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের সীমান্ত চৌকিতে পৌঁছিয়ে দূরবিনে চোখ রেখে সুরক্ষা-ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন অমিত শাহ। শনিবার তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। জওয়ানদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত করতে চতুর্মুখী নিরাপত্তা গ্রিড তৈরি করছে কেন্দ্রীয় সরকার।