আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে ফের নতুন গতি। একের পর এক তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখার মাঝেই বৃহস্পতিবার সিবিআইয়ের তলবে নিউ টাউনের দফতরে হাজির হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণ...
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে ফের নতুন গতি। একের পর এক তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখার মাঝেই বৃহস্পতিবার সিবিআইয়ের তলবে নিউ টাউনের দফতরে হাজির হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। দুপুর ১২টার কিছু আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসে পৌঁছন তিনি।
গত কয়েকদিন ধরেই এই মামলার তদন্তে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে সিবিআইয়ের বিশেষ দল। বুধবার তদন্তকারীরা যান পানিহাটির সেই শ্মশানে, যেখানে নির্যাতিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। শ্মশানের রেজিস্টার, কর্মীদের বয়ান এবং সেদিনের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখার পরই পরের দিন প্রাক্তন বিধায়ককে ডেকে পাঠানোয় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
প্রথম থেকেই নিহত চিকিৎসকের পরিবার অভিযোগ করে এসেছে, ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনা হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং পরিবারের হাতে সমস্ত নথি তুলে না দিয়েই তড়িঘড়ি দেহ দাহ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই দীর্ঘদিন ধরে পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এই আবহেই চলতি মাসে শিয়ালদহ আদালতে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী দাবি করেন, এই তিনজনকে তদন্তের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। যদিও এর আগে সিবিআই আদালতে জানিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তের নতুন পর্যায়ে এসে সেই অবস্থান বদলাচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
প্রাক্তন বিধায়কের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, সিবিআই ফোন করে দেখা করতে বলেছিল। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতেই তাঁর বাবা সিবিআই দফতরে গিয়েছেন। আরজি কর কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হলেও, নিহতের পরিবারের দাবি— এই ঘটনার নেপথ্যে আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। শ্মশান থেকে প্রাক্তন বিধায়কের দরজায় সিবিআইয়ের পৌঁছে যাওয়া, সেই অমীমাংসিত প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজারই নতুন অধ্যায় বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।