২০২৪ সালের মে মাসে নিউ টাউনের এক বিলাসবহুল আবাসনে খুন হয়েছিলেন বাংলদেশের আওয়ামী লীগ সাংসদ আনোয়ারুল আজীম আনার। তাঁর সেই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল দুই দেশের মধ্যে। এবার সেই হত্যা...
২০২৪ সালের মে মাসে নিউ টাউনের এক বিলাসবহুল আবাসনে খুন হয়েছিলেন বাংলদেশের আওয়ামী লীগ সাংসদ আনোয়ারুল আজীম আনার। তাঁর সেই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল দুই দেশের মধ্যে। এবার সেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এক অভিযুক্তের হদিশ মিলল কলকাতার নিউ টাউন এলাকা থেকেই। তিনিও হাসিনার দলের প্রাক্তন সাংসদ ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে খবর। নাম শাহীন চাকলাদার। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর দেখা মিলেছে। তবে কীভাবে ওই অভিযুক্ত শহরের বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
অন্যদিকে এই অভিযুক্ত শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে এর আগেও বহু অভিযোগ উঠেছে বলে সূত্রের খবর। তাঁর বিরুদ্ধে যশোর শহর, সদর উপজেলা ও কেশবপুরে হিন্দু অত্যাচার ও সংখ্যালঘুদের জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে। এরপর ২০২৪ সালের ৯ জুন বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদপত্রে আওয়ামী নেতার খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসাবে প্রথম শাহীন চাকলাদারের নাম প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু একজন অভিযুক্ত কীভাবে আইনের নজর এড়িয়ে কলকাতার শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে একাধিক মহলে।
সূত্রের খবর, শাহীনের সংখ্যালঘু অত্যাচারের ঘটনায় দলের অন্দরেও যথেষ্ট সমালোচনা ছিল। এমনকি আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো হাসিনাও অসন্তুষ্ট ছিলেন তাঁর উপর। একাধিকবার তাঁকে দলের তরফে সাবধানী হতে বলা হলেও সেই উপদেশ কানে নেননি শাহীন। তবে এখানেই শেষ না। গোপন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, নিউ টাউনের বহুতলে অভিযুক্ত শাহীন রমরমিয়ে 'মধুচক্রের' কারবারও শুরু করেছে। যশোর, নড়াইল ও ঢাকা থেকে মহিলাদের এনে সেখানে রমরমিয়ে 'ব্যবসা' চলছে বলে খবর। পাশাপাশি ওই বহুতলে শুরু হয়েছে বহু বাংলাদেশিদের নিয়মিত যাতায়াতও।
২০১৯ সালের ১লা অক্টোবর বাংলাদেশের এক সংবাদপত্রে অভিযুক্ত শাহীনের বিরুদ্ধে এক হিন্দু ব্যক্তির জমি অধিগ্রহনের অভিযোগ ওঠে। পরে সেই জমিতে একটি মাদ্রাসা বানিয়ে জঙ্গি জেহাদি ট্রেনিং শুরু হয় বলে অভিযোগ। শাহীন চাকলাদার ও তার ভাই শামীম চাকলাদার সেই মাদ্রাসায় জঙ্গি অর্থায়ন করে বলে খবর।
এই অবস্থায় ওই অভিযুক্তের কলকাতায় বসবাস কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা না ভারতীয়রা। অভিযুক্তকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক বলেও দাবি তোলা হয়েছে। অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করে শাহীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে।