মুষলধারে বৃষ্টি, আকাশজোড়া কালো মেঘ আর তার মাঝেই কলকাতা বিমানবন্দরে ঘটে গেল একের পর এক দুর্ঘটনা। শুক্রবার সকালে বজ্রপাতের জেরে আহত হলেন অন্তত দুই গ্রাউন্ড স্টাফ। আরও এক কর্মীও সামান্য আহত হয়েছেন বলে প...
মুষলধারে বৃষ্টি, আকাশজোড়া কালো মেঘ আর তার মাঝেই কলকাতা বিমানবন্দরে ঘটে গেল একের পর এক দুর্ঘটনা। শুক্রবার সকালে বজ্রপাতের জেরে আহত হলেন অন্তত দুই গ্রাউন্ড স্টাফ। আরও এক কর্মীও সামান্য আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর চত্বরে কিছুক্ষণের জন্য চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সূত্রের খবর, সকাল থেকেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও স্বাভাবিক নিয়মে বিমান পরিষেবার প্রস্তুতি চলছিল। কলকাতা থেকে আগরতলাগামী একটি বিমানে যাত্রীদের লাগেজ তোলার কাজ করছিলেন গ্রাউন্ড স্টাফরা। সেই সময় আচমকাই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। তাতেই গুরুতরভাবে আহত হন দুই কর্মী। ঘটনাস্থলেই তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
একই সময়ে কলকাতা থেকে দুবাইগামী আরেকটি বিমানের কাছেও বিপত্তি ঘটে। বজ্রপাতের প্রভাবে বিমানের ভিতরের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা দেখা দেয় বলে জানা গিয়েছে। বিমানের আলো নিভে যায় এবং এক কর্মী সামান্য আহত হন। যদিও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত এই দুই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এদিনের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল বর্ষাকালে বজ্রপাত কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়া দফতর আগেই সতর্ক করেছিল, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই সেই পূর্বাভাসের প্রতিফলন দেখা যায়।
প্রবল বর্ষণের ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমে গিয়েছে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, গিরিশ পার্ক, মানিকতলা, ঠনঠনিয়া-সহ উত্তর কলকাতার একাধিক রাস্তা জলমগ্ন। দক্ষিণ কলকাতা এবং সল্টলেকের বিভিন্ন এলাকাতেও একই ছবি। জল দ্রুত নামানোর জন্য কলকাতা পুরসভা কন্ট্রোল রুম খুলে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের অবস্থাও উদ্বেগজনক। টানা বৃষ্টিতে কার্শিয়াংয়ের কাছে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে। দুধিয়া এলাকার সেতু ভেসে গিয়েছে নদীর জলে। পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা, আর আগামী দিনে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বর্ষার এই দাপট এখন শুধু স্বস্তির বৃষ্টি নয়, বরং জনজীবন, পরিবহণ এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।