দলবদলের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার অবশেষে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক উর রহমান। আর তার ঠিক পরেই প্রতীক উরকে বহিষ্কার ঘোষণা করল সিপিআইএম। দল বিরোধী কার্যকলাপ এবং 'শত্রু শিবিরে' যোগ দেওয়ার জন্যে তাঁকে দল থ...
দলবদলের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার অবশেষে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক উর রহমান। আর তার ঠিক পরেই প্রতীক উরকে বহিষ্কার ঘোষণা করল সিপিআইএম। দল বিরোধী কার্যকলাপ এবং 'শত্রু শিবিরে' যোগ দেওয়ার জন্যে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। পার্টি গঠনতন্ত্রের ১৯ নম্বর ধারা, ৫৬ নম্বর উপধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ আমতলার তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছোন প্রতীক উর। দেখা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এরপরেই তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে তুলে নিয়ে নিজের 'কমরেড' তকমা মুছে ফেলেন প্রতীক উর। অন্যদিকে এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই তাঁকে সিপিআইএম থেকে বহিষ্কার ঘোষণা করেন সেলিম। বলেন, 'রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শত্রু শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য এবং দল বিরোধী কার্যকলাপের জন্য প্রতীক উর রহমানকে বহিষ্কার করা হল।' পাশাপাশি এদিন প্রতীকের নতুন রাজনৈতিক জীবনের সফলতা কামনা করতেও দেখা গিয়েছে সেলিমকে। প্রসঙ্গত, গতকাল প্রতীকের দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে আবেগ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল মহম্মদ সেলিমকে। ঘটনাকে 'সন্তানহারা' হওয়ার সমতুল্য অনুভূতি বলেও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
বস্তুত সম্প্রতি প্রতীক উর দলের রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি এমনকি, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করে চিঠি লিখেছিলেন। সেই অনুযায়ী প্রতীকের এই পদক্ষেপে সিপিএম গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে আগেই বহিষ্কার করতেই পারত। কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি রাজ্য কমিটি। প্রতীক উরের চিঠির পরেও দলের একাংশ তাঁকে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি আলাদাভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন প্রবীণ নেতা বিমান বসুও। যদিও সেই সব চেষ্টায় কার্যত 'বুড়ো আঙ্গুল' দেখিয়ে দল বদলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করলেন প্রতীক।