শনি ও রবিবারের পর আজ, সোমবার ফের ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। অভিযোগ, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়...
শনি ও রবিবারের পর আজ, সোমবার ফের ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। অভিযোগ, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছিল। আর সেই চক্রে সুমিতও জড়িত ছিল বলে দাবি অভিযোগকারীর। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকদিন ধরেই তদন্ত চালাচ্ছে পুলিস। আজ, সেই সূত্রেই সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে খবর সূত্রের।
চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে গত জুন মাসে ডেবরা থানায় অভিযোগ দায়ের হয় সুমিত রায় ও মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে। এছাড়াও নাম জড়ায় আশিক কাজী নামে আরেক অভিযুক্তের। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৩ জুন এফআইআর রুজু করে ডেবরা থানা। পরে সেই মামলার তদন্তভার আসে রাজ্য পুলিসের বিশেষ তদন্তকারী বিভাগ সিআইডি-র হাতে। শুরু হয় তদন্ত। তবে ইতিমধ্যেই সুজয় হাজরা ও আশিক কাজী'কে গ্রেফতার করা হলেও সুপ্রিম নির্দেশে গ্রেফতারি থেকে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন সুমিত। কিন্তু তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর সেই নির্দেশ মেনেই পর পর তিন দিন সিআইডি দফতরে হাজিরা দিলেন সুমিত।
অভিযোগকারী প্রসেনজিৎ রায়ের দাবি, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১২ জন চাকরিপ্রার্থীকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তার বিনিময়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে মোট প্রায় ১২ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুজয় হাজরা চাকরিপ্রার্থীদের আশিক কাজী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিত। আশিক নিজেকে নবান্নের সরকারি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এরপর চাকরিপ্রার্থীদের খাদ্য ভবন ও বিকাশ ভবনের মতো সরকারি দফতরে নিয়ে গিয়ে ভুয়ো মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। পরে সেই চাকরিপ্রার্থীদের হাতে জাল নিয়োগপত্রের রঙিন ফটোকপিও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরিতে যোগ দিতে গেলে জানা যায় প্রতারিত হয়েছেন তারা। এরপর টাকা ফেরত চাইলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি অভিযোগকারীর।
এমতাবস্থায় এই গোটা ঘটনার সঙ্গে সুমিতের সম্পর্ক কতটা গভীর, তা জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার ঘটনায় সুমিতের সরাসরি বা পরোক্ষ ভূমিকা কিনা, খতিয়ে দেখা হবে তাও। পাশাপাশি আশিক কাজীর সঙ্গে সুমিতের কী সম্পর্ক তাও কথা বলে জানতে পারেন সিআইডি আধিকারিকরা।