বিধানসভার অধিবেশনে নতুন সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকারের রূপরেখা তুলে ধরে আশাবাদের বার্তা দিলেন রাজ্যপাল। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, সীমান্ত সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।রাজ্যপাল বলেন, বাংলার মানুষ ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন এবং দীর্ঘদিনের অসন্তোষের পর পরিবর্তনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। এখন নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। তাঁর কথায়, "সরকারের প্রথম দায়িত্ব দেশের সুরক্ষা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।"
সিন্ডিকেট রাজ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
বক্তৃতায় আগের সরকারের সমালোচনা করে রাজ্যপাল বলেন, সিন্ডিকেট রাজ, কয়লা ও পাথর পাচারের মতো অভিযোগ থেকে রাজ্যকে মুক্ত করতে হবে। নতুন সরকার ইতিমধ্যেই দুর্নীতি রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আবাস যোজনায় দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যপাল জানান, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং প্রকৃত উপভোক্তার কাছেই সুবিধা পৌঁছবে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ রোধ
রাজ্যপালের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে সীমান্ত নিরাপত্তাও। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশের কারণে রাজ্যের জনবিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ এগোচ্ছে।
ডিজিটাল ভূমি সংস্কার ও জনগণনা
ভূমি সংস্কারকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যপাল। গ্রামীণ ও শহুরে জমির রেকর্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে।
শিক্ষা ও নিয়োগে মেধার উপর জোর
শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করার ইঙ্গিত দিয়ে রাজ্যপাল বলেন, সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, মিড-ডে মিলের মানোন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষায় মেধার ভিত্তিতে ভর্তি নিশ্চিত করা হবে। নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগের আমলে যে অনিয়ম হয়েছে, নতুন সরকার তা হতে দেবে না। চাকরির বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তও উল্লেখ করেন তিনি।
কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও উত্তরবঙ্গে বিশেষ নজর
রাজ্যপালের বক্তব্যে উঠে আসে কর্মসংস্থানের বিষয়ও। তিনি বলেন, "বাংলার যুবকদের আর ভিনরাজ্যে কাজের জন্য যেতে হবে না, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।" স্টার্ট-আপ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গে নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা, নতুন এইমস প্রতিষ্ঠা এবং চিকিৎসক-নার্স নিয়োগের আশ্বাসও দেন তিনি। পাশাপাশি বন্ধ চা বাগান খুলে দেওয়া এবং উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।
পর্যটনে নতুন দিশা
তরাই-ডুয়ার্স, গঙ্গা তীরবর্তী অঞ্চল এবং সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যপাল। তাঁর মতে, পর্যটন শিল্প রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। সবশেষে তিনি বলেন, "এই সরকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। তাই মানুষের জন্য কাজ করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। বিরোধীদের গঠনমূলক সমালোচনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।" নতুন সরকারের এই প্রতিশ্রুতিগুলি আগামী দিনে কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের মানুষ।