বামাচরণের মা রাজকুমারী দেবী-উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। মুখে ভাষা নেই। চোখে এক ফোঁটা জল নেই। আকস্মিক এই ঘটনায় তিনি স্থবির হয়ে গেছেন। নীরব বেদনায় আড়ষ্ট হয়ে গেছেন। রাজকুমারী দেবী- ভা...
বামাচরণের মা রাজকুমারী দেবী-উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। মুখে ভাষা নেই। চোখে এক ফোঁটা জল নেই। আকস্মিক এই ঘটনায় তিনি স্থবির হয়ে গেছেন। নীরব বেদনায় আড়ষ্ট হয়ে গেছেন। রাজকুমারী দেবী- ভাবতেই পারেন নি যে তাঁর জীবনে এমন বির্পযয় আসতে পারে।
বামাচরণ দিনরাত মায়ের নামে বিভোর হয়ে থাকে আর ছোট ছেলে রামচন্দ্রের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। সংসারটা জোড়াতালি দিয়ে কোনমতে চলছে। একদিন রাজকুমারী দেবী' বামাচরণকে বলেন, "বাবা সংসারে তুই বড় ছেলে। এমনি চুপ করে থাকলে সংসার চলবে কি করে। যা হোক একটা কিছু কর।" মায়ের করুন মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকেন বামাচরণ। বুঝাতে পারছেন, সংসারের দৈন্যতার দিনের পর দিন অসহ্য হয়ে উঠচ্ছে। আর দেরী না করে তিনি কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন। বামাচরণ ব্রাহ্মন সন্তান, লেখাপড়া তেমন কিছু শেখেননি। তাছাড়া বাবা সর্বানন্দ জমিজমা তেমন রেখে যান নি, যা দিয়ে দুবেলা দুমুঠো অন্নের সংস্থান হয়।
অবশেষে বামাচরণ মুখুটি গ্রামের কালীবাড়িতে কাজ পান। কাডাটা হলো পুজোর ফুল তোলা। নামমাত্র মাসিক বেতন আর দুবেলা ভোগের প্রসাদ, তাই দিয়ে কোনমতে একবেলা আধবেলা পরিবারের সবাই গ্রহন করেন। দোষ ক্রুটি মন্দিরের পুজারী বামাচরণের প্রতি সন্তুষ্ট নন। প্রথম প্রথম মানিয়ে নিতেন। কিন্তু পরে বামাচরমের প্রতি ভীষণ বিরক্ত হন। ইদানীং বামার কাজে ভুল ত্রুটি হয়ে চলেছে। পুজোর ফুল তুলতে গিয়ে গাছতলায় বসে রামপ্রসাদী গান গায়। পুরোহিত বকাঝকা করে বলে , "এবার কোন ভুল হলে সোজা জমিদারকে জানিয়ে দেওয়া হবে।" (ক্রমশ)