সৌমেন সুরঃ ১৮৭৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রবীন্দ্রনাথের উপনয়ন হয় ১১ বছর ৯ মাস বয়সে। তাঁর পরিবার ব্রাহ্মণ হলেও আদি ব্রাহ্মণ সমাজে উপনয়নের রীতি আছে। যথাসময়ে রবীন্দ্রনাথের পেতে হওয়ায় তাঁকে নেড়া হতে ...
সৌমেন সুরঃ ১৮৭৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রবীন্দ্রনাথের উপনয়ন হয় ১১ বছর ৯ মাস বয়সে। তাঁর পরিবার ব্রাহ্মণ হলেও আদি ব্রাহ্মণ সমাজে উপনয়নের রীতি আছে। যথাসময়ে রবীন্দ্রনাথের পেতে হওয়ায় তাঁকে নেড়া হতে হয়। এই অবস্থায় স্কুলে গেলে বিশেষ করে ফিরিদী স্কুলের ছাত্ররা রবিকে ক্ষ্যাপাতে ছাড়বে না। রবি-পন করলো মনে মনে- সে স্কুল যাবে না। এই সময় পিতা দেবেন্দ্রনাথ পুত্রের অবস্থা দেখে, তাকে হিমালয় ভ্রমণে নিয়ে যাবেন মনস্থ করলেন। রবীন্দ্রনাথ রাজী। পিতার প্রস্তাবে পুরোপুরি তার সমর্থন আছে জানিয়ে দেয়। পিতার সঙ্গে এই প্রথম ভ্রমণ। চার দেয়ালের গন্ডি থেকে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে চলেছে রবি। মনে তার অফুরন্ত আনন্দ। হিমালয় যাবার আগে বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে কিছুদিনের জন্য অবস্থান হল।
চারিদিক ধূ ধূ প্রান্তর, সবুজ শ্যামলীমার নৈসর্গিক দৃশ্য রবিকে বিমোহিত করে। দূরে শালবনের সারি, আঁকাবাঁকা লাল মাটির মেঠো পথ। রবির ভীষন ভাল লেগে যায় জায়গাটা। সেইসঙ্কো শান্তিনিকেতনের প্রেমে পড়ে যায় রবি। মুক্তির আনন্দে করে সে বিষ্ফল। এতদিন পিতা ছিলেন দূরের মানুষ। এখন বরফে ঢাকা- পাহাড় তাঁকে অন্য জগতে নিয়ে যায়। পিতার সাহচর্যে রবি যেন প্রকৃতি প্রেমিকা ও নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে ডুবে যায়। পিতার কাছে রোজ সকালে জ্যোতিবিদ্যা, অঙ্ক, ইতিহাস সংস্কৃত শিখতে থাকেন। রবীন্দ্রনাথের কাছে এক নতুন দিগন্তের পথ খুলে যায়। পিতার কাছে অনেক কিছু শিখে, হিমালয় থেকে ফেরার পর রবি জ্যোতিবিদ্যার ইংরেজী বই থেকে বাংলা অনুবাদ করে প্রতিটা প্রবন্ধ লিখে ফেললেন। লেখাটি 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকায় ছাপা হয়। সম্ভবত এটিই তাঁর প্রথম রচনা। পরবর্তীতে আমরা তাঁর বিভিন্ন রচনায় সমৃদ্ধ হই।