পশ্চিমবাংলার পুরোনো গ্রামগুলির মধ্যে অন্যতম গ্রাম হলো হবিবপুর। এটা নদীয়া জেলার রানাঘাট অঞ্চলের অন্তর্গত। এই গ্রামের কৃষিজীবিকা ছিল সমৃদ্ধময়। এবং এই গ্রামের এক দক্ষ ও রক্ষণশীল পরিবার হলো দত্ত পরিবার। ...
পশ্চিমবাংলার পুরোনো গ্রামগুলির মধ্যে অন্যতম গ্রাম হলো হবিবপুর। এটা নদীয়া জেলার রানাঘাট অঞ্চলের অন্তর্গত। এই গ্রামের কৃষিজীবিকা ছিল সমৃদ্ধময়। এবং এই গ্রামের এক দক্ষ ও রক্ষণশীল পরিবার হলো দত্ত পরিবার। নবাব আলিবর্দী খাঁ'র রাজত্বকালে বর্গীয় হামলার জন্য দত্ত পরিবার গঙ্গা পেরিয়ে এপারে চলে আসে। দত্ত পরিবার ছিল ব্যবসারী। ব্যবসার সুবাদে জমিদারী কিনে হবিবপুরে হলেন জমিদার। বাংলার নবজাগরনের পটভূমিকায় জমিদার দত্ত মহাশয় ১৮৬৫ সালে হবিবপুরে এম.ই. স্কুল স্থাপন করেন। অর্থ্যাৎ ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। এই স্কুল পরিদর্শনে আসেন ডঃ ভূপেন্দ্র নাথ দত্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ক্ষৌনিশ চন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ। ১৯৬৫ সালে এই স্কুলের প্রথম সফল পরীক্ষার্থী হলেন অভিমান্য হালদার।
প্রচুর গাছ-গাছালিতে ভরা এই বিদ্যালয়ের অবস্থান। বাংলা ভাষায় রামায়ন কার কবি কৃত্তিবাসের আত্মপরিচয়ে লিখেছেন, 'দক্ষিণে পশ্চিমে বহে তরঙ্গিনী'। বিদ্যালয়ের পশ্চিমের দিঘি প্রায় ৪০ বিঘের ওপর অবস্থিত। তিনটে স্নানের ঘাট আছে। এই দিঘির স্বর্তমান উত্তরাধিকার হলেন শ্রী অমিত দত্ত। যিনি নদীয়া জেলায় প্রথম, পশ্চিমবঙ্গে ২য় কৃত্রিম প্রজননে মৎস্যমীন' তৈরি করেন। এই দিঘির পাড়ে নানা জাতের দৃশ্যময় ফুলের সারি। রাজ্যের সব স্তরের পুষ্প প্রদর্শনীতে তিনি বহুবার অনেক পুরষ্কার লাভ করেন। প্রচুর ছাত্র তার কাছে উদ্যান পালন বিদ্যা শিক্ষা করেছেন। বিদ্যালয়ের উত্তরে আখড়া, ফুলিয়া শ্রী হরিদাস পাট থেকে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু পানিহাটি যাবার পথে এখানে প্রায় ৫০০ বছর আগে অবস্থান করেছিলেন। এখানে দোল উৎসব পালিত হয়। হবিবপুরে যাদব দত্ত মেমোরিয়াল হসপিটাল। এই দত্ত পরিবারের অর্থে পরিচালিত হতো। বর্তমানে পঃবঃ সরকারকে প্রায় ২২ বিখে তুমি ও ট্রাস্টের টাকা তারা অর্পন করেন। এই প্রশাসনিক কাজ করেছিলেন এই বংশের কৃতি সন্তান শ্রী ভূদেব চন্দ্র দত্ত। ইনি মহাকরণে উচ্চপদস্থ আধিকারিক ছিলেন। (ক্রমশঃ)