অসীম সেনঃ হাতি নাকি দুর্দান্ত ভয় পেয়েছে। চামচিকা লাথি মেরে হাতির পশ্চাৎদেশ ফাটিয়ে দেবার হুমকি দিচ্ছে। হাতি অবাক হয়ে ভাবছে, আমিতো এখনও কাদায় পড়িনাই। চামচিকের দল কখনও বা অন্ধের মত হাতির অস্তিত্ব বুঝছে ...
অসীম সেনঃ হাতি নাকি দুর্দান্ত ভয় পেয়েছে। চামচিকা লাথি মেরে হাতির পশ্চাৎদেশ ফাটিয়ে দেবার হুমকি দিচ্ছে। হাতি অবাক হয়ে ভাবছে, আমিতো এখনও কাদায় পড়িনাই। চামচিকের দল কখনও বা অন্ধের মত হাতির অস্তিত্ব বুঝছে তাঁর লেজ ধরে। কেউ বা তাঁর শুড় ধরছে। গোটা হাতির সম্পর্কে সম্যক ধারণা যদিও করতে পারেনি কখনও। তবুও হুমকি-হুঁশিয়ারি চালিয়ে যাচ্ছে। কখনও বা দল ভারি হলে, নিজেকে উন্নততর জীব ভেবে ঘেউ ঘেউ করছে। কিন্তু হুমকি থামাচ্ছে না। মুস্দ্দিক আলি ইবনে মহম্মদ একজন শিক্ষিত সংস্কৃতি মনস্ক মানুষ। তিনি স্লোগান তুলেছেন,' বাবরের পথ ধরো সেভেন সিস্টার্স স্বাধীন করো'।

ভারতের জন্য এটাতো রীতিমত ভয়ের কথা। বাংলাদেশ যদি নিজের ইচ্ছেমত প্রতিদিন সেভেন সিস্টার্রস দখল করতে থাকে, বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত সেনার পরপারপ্রায় যাত্রী দল যদি কলকাতা দখল করতে থাকে নিত্য, তাহলে সে তো রীতিমত ভয়ের বিষয়। বাবর, সে ভারী ভয়ানক দখলদার। কামানের মুখে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ইব্রাহিম লোদীর বাহিনী। বাবরের ধমনীতে ছিল তৈমুর লঙ এবং চেঙ্গিজ খানের রক্ত। কিন্তু আপনার ধমনিতে তো শান্তিগোপালের ন্যায় শান্তিপ্রিয় মানুষের রক্ত। আপনি তেড়েমেরে ডান্ডা মারার সাহস পেলেন কোথা থেকে? এবার ধরুন হাতি ঘুরে দাঁড়াল। আপনি ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখল করতে চিকেন নেকসের দিকে ধূর্ত হায়নার মত দৃষ্টি দিচ্ছেন। প্রথম কথা আপনি নিজেকে হায়না ভাবলেও আদৌ তো তা নন। তারওপর আপনি কি ভূলে গেছেন নিজেদের মুরগীর গলাটার কথা?

বাংলাদেশের ফেনী রাজ্যের চার চান্ডিয়া থেকে বলায়েত এর দূরত্ব মাত্র ৫৩ কিলোমিটার। এই মুরগীর গলার পূর্বে রয়েছে ভারতের মিজোরাম। এবং দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে মিয়ানমার। আর একটু ভয়ের কথা, চিটাগাঁওয়ের দক্ষিণে নিশ্বাস ফেলছে রাখাইন প্রদেশ। চিটাগাঁও বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী এবং বাণিজ্যিক রাজধানী। চিটগাঁওয়ের বান্দরবান-মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির অনুপ্রবেশ তো এমনিতেই আপনাদের পা কাঁপানোর জন্য যথেষ্ট। শুধু সেভেন সিস্টার্স এর দখলদারির হুমকি না হয় মেনে নেওয়া গেল। আপনারাতো এরপরে বাংলাদেশের বীর শিরোমণি উপাধি পেয়ে যাবেন। আপনরা আগুন জ্বালো গোছের হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন।

শেখ হাসিনা এবং ওসমান হাদির হত্যাকারীদের যদি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো না হয়, তাহলে ভারতের হাইকমিশনের এক একটা ইট খুলে নেওয়া হবে। সব থেকে ভয়ের কথা, এই প্রথম জানতে পারা গেল, আপনারা টাকা না পাঠালে ভারত না খেতে পেয়ে মরবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন ইতিমধ্যে। এনসিপি নেতা বীরশিরোমণি হাসনাত আবদুল্লাহ ভারতীয় হাইকমিশনারকে লাথি মেরে বের করে দেওয়ার নিদান দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম দিতে গিয়ে প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে ভারতকে।

আজ আপনারা উপলব্ধি করছেন ভারত আপনাদের স্বাধীনতার জন্য সবথেকে বড় হুমকি। আজকে নিজেদের পিতার জায়গায় বসাতে চাইছেন পাকিস্তানকে। যে পাক বাহিনী আপনাদের ৩০ লক্ষ মানুষের লাসের ওপর নিজেদের চাঁদ তারা মোড়া পতাকা উড়িয়েছিল। যাদের শোবার ঘরে সাজানো থাকত আপনাদের মা-বোনেদের আব্রু। বীরপুঙ্গবের দল সে সব কথা ভূলে গিয়েছেন এই কয়েক দশকে। আপনাদের এখনও ভারত আব্বুলিশ ছাড়া আর কিছু ভাবে না। কিন্তু সহ্যেরও তো একটা সীমা আছে। বাইচান্স যদি ভারত আপনাদের নিজের অংশ ভাবতে ভূলে যায়। তাহলে একটা সিগারেট শেষ করারও সময় পাবেন না। এ বিষয়ে গ্যারান্টি রইল।
