সীমান্তে বাজছে যুদ্ধের সাইরেন। বিএম ২১ গ্র্যাড কিংবা আর এম ৭০ আগুন ছড়াচ্ছে। কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ল থাইল্যান্ড সেনা। যদিও উল্টোটাই বলছে ব্যাংকক। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দু দেশের হাজার হাজার মানু...
সীমান্তে বাজছে যুদ্ধের সাইরেন। বিএম ২১ গ্র্যাড কিংবা আর এম ৭০ আগুন ছড়াচ্ছে। কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ল থাইল্যান্ড সেনা। যদিও উল্টোটাই বলছে ব্যাংকক। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দু দেশের হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী শিহাসাক ফুয়াংকেটকিও সংঘর্ষবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।কম্বোডিয়ার গোলান্দাজ বাহিনীর হামলার জেরে ঘরছাড়াদের ঠাঁই দিতে পঞ্চাশটি আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। থাইল্যান্ড সেনার আক্রমণে একবিংশ শতকে নির্মিত পারাসাত তা ক্রাবে মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে কম্বোডিয়ার অভিযোগ।

এমনিতে পরস্পরের ওপর হামলার ছক খুঁজছে এই দুই দেশ। গত ১০ নভেম্বর সংঘর্ষবিরতির চুক্তি মুলতুবি রাখার কথা ঘোষণা করেছিল থাইল্যান্ড। যুদ্ধের জল্পনা ছড়াতে শুরু করেছিল সেদিন থেকেই। গত ২৬ অক্টোবর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে শান্তিচুক্তিতে সই করিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার মাস দেড়েকের মধ্যেই ফের যুদ্ধের দামামা। বিতর্কিত পান্না ত্রিভুজের দখলদারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে দুই দেশের মধ্যে। বিতর্কিত পান্না ত্রিভূজ হল থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং লাওয়েসের সীমান্তবর্তী এক ভূখণ্ড। এর দখলদারি নিয়ে দুইদেশের দ্বন্দ্ব শতাব্দী প্রাচীন।

১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক আদালত কম্বোডিয়ার পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে কম্বোডিয়া সেখানে শিবির নির্মাণ করতে গেলে উত্তেজনা বাড়ে। এর পাঁচদিন পর ট্রাম্পের মধ্যস্থতাতে সাময়িক সংঘর্ষবিরতি হয়। ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ড নমপেনে নিযুক্ত তার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে এবং কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিস্কার করে। ১৯০৭ সালে ফ্রান্স একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। তখন কম্বোডিয়া তাদের উপনিবেশ ছিল। এই মানচিত্র একটা বিতর্কের জন্ম দিলে ঠিক করা হয় যে সীমান্তটি দুই দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক জলবিভাজিকা রেখা বরাবর চিহ্নিত করা হবে।

এরপরে বিভিন্ন সময় উত্তজনা ছড়িয়েছে। ২০০৮ সালে কম্বোডিয়া প্রিয়াহ ভিহার মন্দিরকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। এর আগে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে পাশে বসিয়ে শান্তি চুক্তি সই করিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু দেড়মাস যেতে না যেতেই ফের পরিস্থিতি ঘুরছে। এবার সেই সংঘর্ষ থামাতে আবার আসরে নামছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে সেই সংঘর্ষ থামে কিনা সেটাই এখন দেখার।