অসীম সেন: ২০১১ সালের ১৩ মে। রাজভবনে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বেড়িয়ে এলেন ক্লান্ত রাজা। কৃষ্ণচুড়া ঝড়ে পড়েছিল অজানা আবেগে। সাদা ধুতি সাদা পাঞ্জাবি যেন আরও উজ্জ্বল। রাস্তার ধারে যারা দাঁড়িয়েছিলেন...
অসীম সেন: ২০১১ সালের ১৩ মে। রাজভবনে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বেড়িয়ে এলেন ক্লান্ত রাজা। কৃষ্ণচুড়া ঝড়ে পড়েছিল অজানা আবেগে। সাদা ধুতি সাদা পাঞ্জাবি যেন আরও উজ্জ্বল। রাস্তার ধারে যারা দাঁড়িয়েছিলেন, গায়ে সবুজ আবির। একটি অজানা সম্ভ্রমে রাস্তা ছেড়ে দিয়েছিলেন সেদিন। আর কোনও দিন রাজা মহাকরণে পা রাখেননি। প্রায় একই ছবি হতে পারত। একই ফ্রেমে ধরা পড়তে পারত ঐতিহ্য। কিন্তু তা আর হল কই?
২০২৬ সালের ৪ মে। গেরুয়া সুনামি এল বাংলা জুড়ে। জনাদেশ বুঝিয়ে দিল বাংলা আবার পরিবর্তন প্রসব করেছে। ৫ মে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপডেট, তিনি লোকভবনে যাবেন না। কারণ তিনি হারেননি। কী নির্লজ্জ ঔদ্ধত্য! বোধহয় এই জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনওদিন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হতে পারবেন না। এজন্যই বিজেপি জিততেই নবান্ন সহ সরকারি অফিসগুলিকে নজরদারির ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলতে হয়। বামেদের সরকারি গাড়ি সেদিন আটকাতে হয়নি।
আজ তৃণমূলের প্রতি সেটুকু ভরসাও রাখা যাচ্ছে না। সেদিন বামেদের বহু ইস্যুর বিরোধিতা করা গেলেও, ব্যক্তিগত ভাবে কারও গায়ে কাদা মাখানো যায়নি। আর আজকে ফলপ্রকাশের দিনই ঘাসফুলের নেতামন্ত্রীদের গায়ে থুতু পড়ছে, গায়ে কাদা ছেটানো হচ্ছে। চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়। তবে কিছু নাম লেখা থাকে হৃদয়ে। কিছু নাম থেকে যায় আস্তাকুড়ে। তিনি ফের বিরোধী ইমেজে। সেখানেই তাঁকে মানায় ভালো।