অসীম সেনঃ প্রতিদিন দশ লিটার দুধ। খাবার পাতে ছটি দেশি মুরগি, একই সঙ্গে ২০০ গ্রাম বাদাম দিয়ে স্পেশাল পানীয়। অতিমানবের মত গায়ের জোর। এক হ্যাচকায় তুলে ফেলতে পারতেন ১২০০ কিলো পাথর। পঞ্চাশ বছরের প্রফে...
অসীম সেনঃ প্রতিদিন দশ লিটার দুধ। খাবার পাতে ছটি দেশি মুরগি, একই সঙ্গে ২০০ গ্রাম বাদাম দিয়ে স্পেশাল পানীয়। অতিমানবের মত গায়ের জোর। এক হ্যাচকায় তুলে ফেলতে পারতেন ১২০০ কিলো পাথর। পঞ্চাশ বছরের প্রফেশনাল জীবনে একবারও কুস্তির রিং হারেননি। দ্য গ্রেট গামা, রুস্তম এ হিন্দ। ১৮৭৮ সালের ২২ মে অমৃতসরের জাবোওয়াল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও জন্ম নিয়ে বিতর্ক রয়েছে কেউ কেউ বলেন তাঁর জন্ম হয়েছিল মধ্যপ্রদেশে। উচ্চতায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। ওজন ১১৩ কেজি।

ছোটবেলা থেকেই কুস্তিগীর হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বাবা ছিলেন প্রথম কোচ। কৈশোরেই একাধিক কুস্তিগীরকে ধরাশায়ী করতে থাকেন গামা।১৯১০ সালে আন্তর্জাতিক কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ইংল্যান্ডে যান। উচ্চতা কম থাকায় প্রতিযোগিতায় নামতে পারেননি গামা। তখন তিনি বিশ্ববিখ্যাত সব কুস্তিগীরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন তাঁর সামনে ৩০ মিনিট টিকে থাকার জন্য। কেউ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি। পঞ্চাশ বছরের পেশাদার জীবনে ১৯১০ সালে ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ১৯২৭ সালে ওয়ার্ল্ড রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপ সহ অজস্র শিরোপা জিতেছিলেন। ১৯১০ সালে ভারত সফরের সময় প্রিন্স অফ ওয়েলস তাকে সম্মান জানাতে একটি রুপোর গদা উপহার দিয়েছিলেন।

এরপর তিনি টাইগার উপাধি পান। একবার ব্রুসলিকেও তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। শোনা যায় ব্রুসলি তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এবং গামার কাছ থেকে দ্য ক্যাট স্ট্রেচ শেখেন যা যোগব্যামের সঙ্গে পুশ আপের একটি জটিল মিশ্রন। তবে রুস্তম ই হিন্দ এর শেষ জীবন কিন্তু অতটা সুখের ছিল না। মৃত্যুর সময় রীতিমত আর্থিক কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে এই কিংবদন্তিকে। দেশভাগের পরে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন দ্য গ্রেট গামা। এরপর লাহোরে ১৯৬০ সালে ২৩ মে মারা যান এই অতিমানব।