দু-হাতে দুই বল নিয়ে জাগলিং।
ভোট ঘোষণার আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, মার্চের পয়লা থেকে দু-দফায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে বাংলায়। কী বলবেন?
বিজেপি বলছে, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডার দ্বিগুণ করে দেবে, দেড় হাজার থেকে একেবারে তিন হাজার। কী বলবেন?
পেশাদার জাগলারের মতো দু-হাতে দু-দুটো বল নিয়ে জাগলিং করতে-করতে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বললেন, "আগেরবার লোকসভা নির্বাচনে জম্মু-কাশ্মীরের চেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়েছিল বাংলায়। মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলে যত কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে, তার চেয়ে বেশি বাহিনী বাংলায় পাঠিয়েছিল। বলেছিল, পশ্চিমবঙ্গে নাকি বিজেপির আসন বাড়বে। কিন্তু আসন উল্টে কমে গেলো। কেন্দ্রীয় বাহিনীর লোকেরা এখানে এসে অবাক হয়ে গিয়েছিল। তারা গ্রামে গিয়ে বলছে, আপনাদের এখানে লক্ষ্মীর ভান্ডার পান মহিলারা! আমাদের রাজ্যে পান না। যত কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠায় বিজেপি, তারা ততই বাংলার প্রতি মুগ্ধ হয়ে নিজেদের রাজ্যে বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এবারও এত কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে। যতই বাহিনী আসবে, আমরা ততই তাদের ওদের বলবো, বাংলায় কী-কী সুবিধা পাওয়া যায়"।
আর লক্ষ্মীর ভান্ডার?
কুণালের মন্তব্য, "প্রথমে যারা বিরোধিতা করেছিল, সেই বিজেপি এখন লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে অনেক কথা বলছে। তাদের বলবো, রাজ্যের বকেয়া টাকা যাতে আর আটকে রাখা না-হয়, দিল্লিতে গিয়ে সেই কথা বলা হচ্ছে না কেন"?
বাংলায় বাহিনী আসছে কবে, কত?
বিধানসভা ভোটের আগেই, মার্চ মাসে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে রাজ্যে। পয়লা মার্চ আসছে ২৪০ কোম্পানি আর ওই মাসেরই ১০ তারিখে বাকি ২৪০ কোম্পানি বাহিনী।
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এই দাবি করে আসছে বেশ কিছুদিন ধরেই। বিশেষ করে এসআইআর-এর শুনানি-পর্বে যখন রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিক্ষোভ, বিডিও অফিস ভাঙচুর, প্রকাশ্যে কমিশনের বিরুদ্ধে মানুষকে তাতিয়ে তোলার ঘটনা ক্রমাগত সামনে আসছিল, তখনই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছিল বঙ্গবিজেপি। এছাড়াও, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়ের সামনে তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের লাগাতার বিক্ষোভের প্রসঙ্গেও বাহিনী মোতায়েনের দাবি ওঠে। এবং, সর্বোপরি, বিএলও-দের নিরাপত্তা না-দিলে সুষ্ঠুভাবে রাজ্যে এসআইআর পর্ব সম্পন্ন করা যাবে না বলেও দাবি করেছিল বঙ্গবিজেপি নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বাহিনীর দাবি শুধু বঙ্গবিজেপি করছে, তা নয়। রাজ্যে এসাইআর পর্বে কম অশান্তি হয়নি। কমিশনের পর্যবেক্ষক সি মুরুগানের গাড়ি আটকে যেভাবে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে, তাতে কমিশন বিরক্ত। এমতাবস্থায়, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা নিয়ে যখন চূড়ান্ত সংশয় দেখা দিয়েছে, নজিরবিহীনভাবে আদালতের নজরদারিতে এসাইআরের শেষ পর্ব সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত, তাতে করে আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। এসআইআর-পর্বে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে রাজ্যের ডিজিকে সতর্ক করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট চরম পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এবং এই সবকিছুর নিট ফল: ভোট ঘোষণার আগেই বাংলায় প্রায় ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ।