সব গিয়েছে। এবং, যেতে বসেছে। নিজের হাতে তৈরি ঘাসফুল প্রতীক পর্যন্ত শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকবে কি না জানা নেই। এমতাবস্থায়, সহায়-সম্বল বলতে ৪৪০ কোটি টাকার দলীয় তহবিল। শেষ পর্যন্ত সেই অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত ফ্রিজ করে দিয়েছে ইডি।
এই পরিস্থিতিতে, কালীঘাট-তৃণমূলের আইনজীবী হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করলেন অভিষেক মনু সিংভি। এবং, সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জানাল, তহবিল ব্যবহার করা যাবে, তবে তা শর্ত মেনে। শর্ত বলতে, আদালত নিযুক্ত আধিকারিকের কড়া নজরদারিতে লেনদেন চলবে।
প্রথম ধাপে, কোনও চেক সই করা হলে পাঠাতে হবে ওই আধিকারিকের কাছে। আদালত-নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিক যদি মনে করেন, যে-পরিমাণ টাকা তোলা হচ্ছে, সেই পরিমাণ টাকা সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজন, তবেই তিনি ছাড়পত্র দেবেন। তাঁর ছাড়পত্র পেলে তবেই লেনদেন হবে। প্রসঙ্গত, এটি একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ।
পর্যবেক্ষকরা মনে করাচ্ছেন, শুধু ইডি তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট সিজ করেছে সম্প্রতি, তা কিন্তু নয়। তৃণমূলের ৪৪০ কোটির অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্রথম আইনি জটিলতা তৈরি করেন অরূপ বিশ্বাস। তারপর থেকেই কার্যত ওই তববিলের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।
যেহেতু তৃণমূল এখন বহুখণ্ডে বিভক্ত, তাই, এমতাবস্থায় দলীয় তহবিল থেকে যাতে কোনও লেনদেন না-হয়, সেই মর্মে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে চিঠি দেন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। এদিকে, দলের অন্য শিবির দাবি করে, অরূপ আর কোষাধ্যক্ষ নেই, শুভাশিস চক্রবর্তীর হাতে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, একটি রাজনৈতিক দলের কোষাধ্যক্ষ হতে গেলে যে-যে পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তার মধ্যে দিয়ে যাননি শুভাশিস, দাবি অরূপ শিবিরের। এই জটিলতার মাঝে তৃণমূলের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার তহবিল কার্যত ফ্রিজ করে দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, যতদিন-না পর্যন্ত আদালত সব পক্ষের কথা শুনে স্থির করবে, কে বা কারা ওই তহবিল থেকে টাকা তুলতে পারবে, ততদিন পর্যন্ত ওই কুবেরের ধন ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে।
এমতাবস্থায়, অরূপ বিশ্বাসকে শোকজ করে কালীঘাট-তৃণমূল: কেন তিনি আগ বাড়িয়ে ব্যাঙ্কে এই চিঠি দিলেন? সূত্রের খবর, তিন পাতার চিঠিতে সেই শোকজের জবাব দেন অরূপ। রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই দলের প্রয়োজনে যে-চেকগুলিতে তিনি সই করেছেন, তা কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, কারা ব্যবহার করেছেন, তা তাঁকে জানানো হয়নি। এমতাবস্থায়, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না তাঁর সামনে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তৃণমূলের তহবিলে যে-কুবেরর ধন রয়েছে, কালীঘাট-তৃণমূল যাতে তার নাগাল না-পায়, সেই লক্ষ্যে চিঠি-চাপাটি করেছে ঋতব্রত-তৃণমূলও। তৃণমূলের তহবিলের উৎস নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তদন্তের দাবি করেছে তারা।