প্রথমার্ধে গোল ১০ গোল খেয়েও দ্বিতীয়ার্ধে সেই গোল শোধ করে পাল্টা গোল দিল নির্বাচন কমিশন। বাংলার শাসক শিবির ও নির্বাচন কমিশন দেশের শীর্ষ আদালতে পরস্পরের বিরুদ্ধে যে-ধর্মযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল, ...
প্রথমার্ধে গোল ১০ গোল খেয়েও দ্বিতীয়ার্ধে সেই গোল শোধ করে পাল্টা গোল দিল নির্বাচন কমিশন।
বাংলার শাসক শিবির ও নির্বাচন কমিশন দেশের শীর্ষ আদালতে পরস্পরের বিরুদ্ধে যে-ধর্মযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল, শেষ অবধি তার নিট ফল ঠিক এমনই। খেলা শেষ হতে আর বেশি সময় নেই। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। এমতাবস্থায়, ১৩ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এই অল্প সময়ের মধ্যে আর খেলার ফলে বড়সড় কোনও হেরফের হবে না বলেই মনে করছে আইনজ্ঞ মহল।
সিইও-র মুখে যুদ্ধজয়ের হাসি?
এদিন সুপ্রিম কোর্টে যখন মোথাবাড়ি ও এসআইআর মামলার জোড়া শুনানি চলছে, সেই টাইমলাইনের আশপাশেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে প্রশ্ন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ট্রাইবুনালের কাজ কবে শুরু হবে?দৃশ্যতই আত্মপ্রত্যয়ী এই আমলা জয়ের হাসি হেসে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেন, "ট্রাইবুনাল তো চলছে। কাল একটা অর্ডার হল (ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থীকে বৈধ ভোটার ঘোষণা), আজ একটা হিয়ারিং চলছে (রতুয়ার কংগ্রেস প্রার্থী বৈধ ভোটার কি না)। কাজ চলছে পুরোদমে। নোডাল সেখানে যোগ দিচ্ছেন আজকে। ট্রাইবুনাল, হাইকোর্ট, কমিশনের মধ্যে ফুল কোঅর্ডিনেশন করবেন তিনি"।
'সুপ্রিম'-নিরাশ রাজ্যের শাসক শিবির
এই তো কিছুদিন আগের কথা। সশরীরে সওয়াল করে 'সুপ্রিম'-জয় করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিজের ও আইনজীবীদের সওয়ালের ভিত্তিতে 'অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক রায়' দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট: কে বৈধ ভোটার তা বিবেচনা করবেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। এবং, তাঁদের বিবেচনা বা বিচারকে কেউ যদি চ্যালেঞ্জ করতে চান তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ট্রাইবুনালে যেতে পারেন।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা ঘুরে যায়। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নামে নালিশ, কমিশনের নামে নালিশ শুনতে-শুনতে তিতিবিরক্ত হয়ে ওঠেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এবং, এর মধ্যে ঘটে যায় মোথাবাড়ি-কাণ্ড। এমতাবস্থায়, এদিন ট্রাইবুনালের কাজ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দ্রুত শেষ করার জন্য আইনজীবী শ্যাম দিওয়ানের অনেক আবেদন নিবেদন সত্ত্বেও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী তা খারিজ করে স্পষ্টই জানিয়ে দিলেন, এত তাড়াহুড়ো করলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হবে। কপিল সিব্বাল অন্তর্বর্তী সুরাহা চাইলেন। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভিজল না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কীভাবে কাজ করবে ট্রাইবুনাল তা ঠিক করবে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ৩ সদস্যের একটি কমিটি এবং সেই কমিটি তৈরির জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করছেন তিনি।