বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এনকাউন্টার। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে। তখনই সুযোগ বুঝে পুলিসের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস।...
বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এনকাউন্টার। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে। তখনই সুযোগ বুঝে পুলিসের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। পাল্টা পুলিসের গুলিতে মৃত্যু হল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। একইসঙ্গে আরও এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফলে এই নৃশংস ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার।
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে বারুইপুরের সূর্যপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই সে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার আগে থেকেই প্রভাস তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছিল। পুলিশের হাতে আসা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই নাবালিকার সঙ্গে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে প্রভাস। তাকে গ্রেফতার করার পর জেরার সূত্র ধরেই উদ্ধার হয়েছিল বস্তাবন্দি নাবালিকার দেহ। যদিও তদন্তকারীদের অভিযোগ, জেরার সময় সে বারবার বয়ান বদলে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল।
এদিকে তদন্তের গতি থেমে নেই। বুধবার আরও এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং গোটা অপরাধচক্রের প্রত্যেক সদস্যকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। বারুইপুর কাণ্ডের পর থেকেই রাজ্য সরকারের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিজিপিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির নির্দেশ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অপরাধীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং তদন্তে পুলিশের গাফিলতি প্রমাণিত হলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুধু মূল অপরাধ নয়, ঘটনার পর বারুইপুরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা, ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনাতেও প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে বারুইপুর কাণ্ডে প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—শুধু অপরাধীদের গ্রেফতার নয়, তদন্তের প্রতিটি স্তরে দ্রুত পদক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা ভাঙার যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়া এবং বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কত দ্রুত শেষ করে চার্জশিট পেশ করা যায়, সেদিকেই।