তৃণমূলের বিধানসভা-বিপর্যয়ের পর যখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এল বিজেপি সরকার, তখন থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে শুরু করলেন ঘাসফুল শিবিরের নেতারা। এমতাবস্থায় তাঁদের প্...
তৃণমূলের বিধানসভা-বিপর্যয়ের পর যখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এল বিজেপি সরকার, তখন থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে শুরু করলেন ঘাসফুল শিবিরের নেতারা। এমতাবস্থায় তাঁদের প্রশ্ন করা হত, এই সেদিন অবধি যাঁর মুণ্ডুপাত করেছেন, হঠাৎ তাঁর প্রশংসা কেন? এর উত্তরও ছিল গতে বাঁধা: কেউ ভালো কাজ করলে তাঁর প্রশংসা করতেই হয় দলমত নির্বিশেষে।
এবার বারুপুরকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন নিউ আলিপুরের বিশ্বাস ভাতৃদ্বয়ের বড়জন: অরূপ বিশ্বাস।
বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে জীবন্ত অবস্থায় বস্তায় পুরে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় স্তম্ভিত বাংলার নাগরিক সমাজ। দোষীদের কঠোর সাজার দাবিতে দলমত নির্বিশেষে সরব সব পক্ষ। এমতাবস্থায় ঋতব্রত-তৃণমূলের অন্যতম মুখ অরূপ বিশ্বাস বললেন, “মুখ্যমন্ত্রী ভালো কাজ করলেন”।
এদিন দুপুরে বারুইপুরের এসপি অফিসে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসে নির্যাতিতার পরিবার। ওই পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়: নির্যাতিতার পরিবার আমার উপর আস্থা রেখেছে, এটা আমার এক বড় প্রাপ্তি।
গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারের সঙ্গেও কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবং তারপর জানালেন, গণপিটুনিতে নিহত যুবক নির্দোষ।
বারুইপুরকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী আগেই আভাস দিয়েছিলেন, নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এমন কিছু কাজ হয়েছে বারুইপুরে, যা থেকে মৌলবাদী শক্তির উপস্থিতি স্পষ্ট হয়। এদিন আরও একধাপ এগিয়ে তাঁর দাবি, ২০০ জন দাঙ্গাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারুকে রেয়াত করা হবে না। যারা রেললাইন উপড়ে ফেলেছে, নেপথ্যে থেকে উস্কানি দিয়েছে, তাদের গ্রেফতার করা হবে। তদন্ত চলছে। বেশ কিছু কল-রেকর্ডিং এসেছে পুলিসের হাতে।
মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এবং, দোষীদের যাতে মৃত্যুদণ্ড হয়, তা সুনিশ্চিত করবে পুলিস। প্রসঙ্গত, বারুইপুরকাণ্ডে পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় পুলিস ফাঁড়িতে খবর দেওয়ার পরও পুলিস নিষ্ক্রিয় ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তাছাড়া, ধৃতদের মধ্যে একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। সবমিলিয়ে, রবিবার যে ভয়ঙ্কর জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটেছে বারুইপুরে, তা আদতে পুলিসি নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বলে দাবি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, পুলিসের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবং তারপর জানিয়ে দেন, পুলিসি পদক্ষেপে শিথিলতা থাকলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। ওই ঘটনায় পুলিসের ভূমিকা নিয়ে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবেন রাজ্য পুলিসের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা।