বারুইপুর নাবালিকা খুন ও গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। এর মধ্যেই অভিযুক্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে পুলিসের এনকাউন্টারে। যা সময়পোযোগী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে অসংখ্য সাধারণ মানুষ। একইভাবে পুলিসের এই অতি তৎপরতাক...
বারুইপুর নাবালিকা খুন ও গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। এর মধ্যেই অভিযুক্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে পুলিসের এনকাউন্টারে। যা সময়পোযোগী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে অসংখ্য সাধারণ মানুষ। একইভাবে পুলিসের এই অতি তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিন। তাঁর কথায়, 'এই সরকার সেই সময় থাকলে আমার তমান্নাও আগেও বিচার পেত...।'
গত বছরের ১৯ জুন কালীগঞ্জে বিধানসভার উপনির্বাচন ছিল। ২৩ তারিখ ছিল ভোটগণনা। সে দিন ফল পুরোপুরি ঘোষিত হওয়ার আগেই কালীগঞ্জে তৎকলাইন শাসক দল তৃণমূলের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে বিজয়মিছিল বার করা হয়। অভিযোগ, সেখান থেকে সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়েছিল। যে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তমন্নার। সেই ঘটনার পর প্রায় এক বছর পার। কিন্তু এখনও দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হয়নি বলে আক্ষেপের সুর তুলেছেন সন্তানহারা মা সাবিনা।
এমতাবস্থায় বারুইপুরে নাবালিকা খুন ও ধর্ষণে এনকাউন্টারের ঘটনা আশার আলো দেখাচ্ছে কামদুনি থেকে গুড়াপে। একইভাবে ঘটনায় উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন সাবিনা। বলেছেন, 'বারুইপুরে যে ফুটফুটে মেয়েটাকে মারা হয়েছে তার বিরুদ্ধে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। দ্রুত এই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। আমার তমান্না হত্যার বিচারও হত, তখন যদি তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় না থাকত। এই সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, একজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, বাকিদেরও যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়। তাদেরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক সরকার।'
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে গিয়ে দেখা করে তমান্না হত্যার বিচারের আর্জি জানিয়ে ছিলেন মা সাবিনা। বিচার হবে বলে আশ্বাসও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিস। বর্তমানে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩। এই অবস্থায় বাকিদেরও গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করছেন সাবিনা।