কালীঘাট তৃণমূলের ডাকা মিছিলকে ঘিরে বুধবার দুপুরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাস্তায় বিপুল ভিড়, ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলার জেরে কিছু সময়ের জন্য কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় পরিস্থিতি। সেই ...
কালীঘাট তৃণমূলের ডাকা মিছিলকে ঘিরে বুধবার দুপুরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাস্তায় বিপুল ভিড়, ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলার জেরে কিছু সময়ের জন্য কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় পরিস্থিতি। সেই আবহেই মিছিলে উপস্থিত হন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি নিজের মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলাকালীন এক ব্যক্তি বারবার সামনে চলে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে সজোরে চড় মারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি বিরোধী শিবিরের কেউ নন, বরং তৃণমূলেরই এক কর্মী।
ঘটনার ভিডিও এবং ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, নিজের দলের কর্মীদের সঙ্গেও যদি এমন আচরণ করা হয়, তবে তা নেতৃত্বের ধৈর্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দেয়। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, বিশাল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষণিকের জন্য উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের মতে, ঘটনাটিকে অযথা রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যদিও বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতৃত্বের আচরণ নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য, যে নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের প্রতি সংযম ও সৌজন্যের বার্তা দেয়, সেই নেতৃত্বের এমন আচরণ জনসমক্ষে অস্বস্তিকর এবং দুর্ভাগ্যজনক। একটি মুহূর্তের উত্তেজনা থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে, নাকি এর পিছনে আরও কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা অব্যাহত। তবে মিছিলের ভিড়ের মধ্যে দলীয় কর্মীকে প্রকাশ্যে চড় মারার ঘটনাটি নিঃসন্দেহে দিনের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ঘটনা হয়ে উঠেছে।