ভোটের মরসুমে ভাঙড়ে তৃণমূলের বিশেষ পর্যবেক্ষক ও ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকত মোল্লার হাত থেকে এদিন তৃণমূলের পতাকা তুলে নিলেন আইএসএফ নেতা হজরত মোল্লা। এবং সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে সওকত বললেন, "ত...
ভোটের মরসুমে ভাঙড়ে তৃণমূলের বিশেষ পর্যবেক্ষক ও ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকত মোল্লার হাত থেকে এদিন তৃণমূলের পতাকা তুলে নিলেন আইএসএফ নেতা হজরত মোল্লা। এবং সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে সওকত বললেন, "তৃণমূলের এমন দুর্দিন আসেনি যে, কারুকে ভয় বা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে দলে যোগদান করাবে"। পাশে বসে-থাকা হজরতকে দেখিয়ে সওকতের সংযোজন, "ওঁকেই জিজ্ঞেস করে নিন না"।
কী বললেন হজরত?
"প্রথমেই একটা কথা বলি, এর আগে অনেকেই আইএসএফ থেকে তৃণমূলে এসেছেন। কিন্তু কখনও শুনেছেন, গ্রামের লোক কান্নাকাটি করছে? প্রচুর মানুষ। আইএসএফ-এ থেকে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা বণ্টন করতে পেরেছি, আমি সার্থক হয়েছি। সবার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি মানুষের স্বার্থেই আইএসএফ থেকে তৃণমূলে এসেছি। আমি যেমন আইএসএফ-এ থেকে মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি, আগামিদিনে তৃণমূলে থেকে মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করবো। কথা দিচ্ছি", সংবাদমাধ্যমের সামনে এমনই এক স্ববিরোধী বক্তব্য রাখলেন হজরত। এবং প্রশ্ন উঠল, আইএসএফ ছেড়ে তৃণমূলে গিয়ে যদি আরও ভালো কাজ করতে পারা যায়, তাহলে কেনই-বা তাঁর বিদায়বেলায় গ্রামের লোকজন কান্নাকাটি করবেন? আর আইএসএফ ছাড়ার জন্য কেনই-বা তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে?
কেন তৃণমূলে এলেন?
হজরতের উত্তর, "আইএসএফ-এ আমি সাতবছর ধরে প্রচণ্ড কাজ করেছি। কিন্তু দলে আমি শিকার হয়ে গিয়েছি। আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করছি। হয়তো আমাকে মিডিয়াতে কম দেখবেন, স্টেজেও কম দেখবেন। আমি স্টেজ নেতা হতে আসিনি। কর্মীদের মনে আমার জায়গা। কোনও আইএসএফ কর্মীকে দেখবেন না, আমার বিরুদ্ধে কোনও কথা বলছেন। এমনকি, নওশাদ সিদ্দিকিও আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করতে পারবেন না। কিছু মানুষ তাঁর পা-চেটে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করেছে। আর আমি দল থেকে সাইড হয়ে গিয়েছি। দল আমাকে নোটিস দিয়েছে। আমি দলকে জানিয়েছি, কোনও ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে, আমাকে কাজ করতে দেওয়া হোক। কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি। আমি ব়্যাপিডো (অ্যাপ বাইক) করে খাই। আমার দু-খানা লরি ছিল। দল করতে গিয়ে ব্যবসাবাণিজ্য সব ছেড়ে দিতে হয়েছে। এখন শোচনীয় অবস্থা আমার। মা পক্ষাঘাতগ্রস্ত। দল কোনওরকম সহযোগিতা করেনি"।
হজরতের দাবি, এরপরই তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে আহ্বান জানায় ও মানুষের জন্য কাজ করা যাবে বলে সুনিশ্চিত করে। এবং, তিনি সওকত মোল্লার হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন।
কী বলছে আইএসএফ?
আইএসএফ জেলা সভাপতি আবদুল মালেক মোল্লার দাবি, "দীর্ঘদিন ধরেই এই নারায়ণপুর অঞ্চলের নেতৃত্ব দিয়েছেন হজরত, এ-কথা ঠিকই। তবে, ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে ওঁর বিরুদ্ধে। দুমাস আগে দল ওঁকে সাসপেন্ড করে। তারপর উনি দলে ফেরার জন্য একাধিক বার আবেদন করেন। তখন তাঁকে বলা হয়েছিল, তিনি ২০২৬ নির্বাচনে দলের হয়ে কাজ করুন, স্থানীয় আইএস এর কর্মীরা যদি তাঁকে মেনে নেন, তাহলে তাঁকে আবারও দলে ফিরিয়ে নেয়া হবে"। এরপর তাঁর কটাক্ষ, "তবে তৃণমূল নেতৃত্ব যেভাবে টাকা নিয়ে আইএসএফ ছেলেদের পিছনে পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাতে মাথা ঠিক রাখা দায়"।