পদ্মময় হয়েছে রেজিনগরও। এই কেন্দ্রটি মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। ৭০ শতাংশ মুসলিম ভোটে বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। কিন্তু উপনির্বাচনে ট্রেন্ডের পরিবর্তন। বিপুল ...
পদ্মময় হয়েছে রেজিনগরও। এই কেন্দ্রটি মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। ৭০ শতাংশ মুসলিম ভোটে বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। কিন্তু উপনির্বাচনে ট্রেন্ডের পরিবর্তন। বিপুল ভোটে জিতলেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। ৭৫ হাজার ৮১৬ ভোটে জয়ী হয়ে রেজিনগরে পদ্মাসনে বসলেন তিনি। এগিয়ে থাকার পরিসংখ্যান সামনে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছিল সেলিব্রেশন। বিকেল গড়াতে চিত্র স্পষ্ট হতেই রেজিনগরের আকাশে উড়ল গেরুয়া আবির। বাজনার তালে তালে নাচলেন কর্মী-সমর্থকরা, চলল মিষ্টিমুখ।
বিধানসভা নির্বাচনেও যেখানে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন, সেখানে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সাড়ে ৭৫ হাজার ভোটে জয়লাভ সমীকরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গেল। ৭০- ৩০ এর ভাগাভাগি কাজে আসল না। সংখ্যালঘুরাও মন খুলে ভোট দিল বিজেপিকে। জয়ের খুশিতে চোখে জল শাখারভ সরকারের। তিনি বলেন, জীবনে প্রথম ভোটে দাঁড়িয়েই জয় পেয়েছি, এই জয় আমার নয়, দল ও দলের কার্যকর্তাদের। ডক্টর কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এবং শ্যামপ্রসাদ মুখ্যোপাধ্যায়কে জয় সমর্পণ করলেন তিনি। জয় ঘোষণার পর শ্যামপ্রসাদের মূর্তিতে মাল্যদান করেন আর্শিবাদও নিতে দেখা যায় শাখারভকে।
নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্দেশে বিভাজনের রাজনীতি দূরে সরিয়ে রেখে উন্নয়ন ও সহযোগিতার সরকার গড়ার বার্তা দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ময়দানে মুখ্যমন্ত্রীর সংহতিপূর্ণ বা 'বন্ধুত্বের বার্তা' রেজিনগরে বিজেপির এই বিপুল ব্যবধান নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ডাকে সাড়া দিয়েছে সংখ্যালঘুরাও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রেজিনগরের ফলাফলে পরিষ্কার যে বাম, কংগ্রেস বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপিকে ঘিরে তৈরি করা ভীতি এবার কাজ করেনি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ এই ভীতি কাটিয়ে উন্নয়নের মূল স্রোতে শামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই এই বিপুল ব্যবধান সম্ভব হয়েছে।