নন্দীগ্রামে দীনবন্ধুপুর যাওয়ার পথে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়কে ঘিরে 'চোর-চোর' স্লোগান। সঙ্গে 'জয় বাংলা'-ও। এমতাবস্থায়, গাড়ি থেকে নেমে উত্তেজিত হয়ে রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা বললেন, "সব মহল্লায় যা...
নন্দীগ্রামে দীনবন্ধুপুর যাওয়ার পথে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়কে ঘিরে 'চোর-চোর' স্লোগান। সঙ্গে 'জয় বাংলা'-ও। এমতাবস্থায়, গাড়ি থেকে নেমে উত্তেজিত হয়ে রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা বললেন, "সব মহল্লায় যাবো। আমার এমএলএ অফিস থেকে সবাইকে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। একুশে আমাকে মুসলিম গ্রামে ঢুকতে দেয়নি। এবার আটকাতে পারবে না। একুশের মতো আর হবে না এবার"।
নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু বিজেপি 'বয়কট'
একুশের বিধানসভায় তিনি নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রতীকে লড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। সেই শুভেন্দু অধিকারী এবার মমতার গড় ভবানীপুরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রস্তুতি নিয়েছেন। একইসঙ্গে, নিজের গড় নন্দীগ্রামেও মুসলিম ভোট সংহত করতেও উদ্যোগী হয়েছেন!
অভিযোগ, মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে বয়কটের ডাক দিয়েছে তৃণমূল: সাবমার্সিবল থেকে জল নেওয়া যাবে না, টোটোতে ওঠা যাবে না। এদিন সেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান শুভেন্দু। এবং, যাওয়ার পথে ওই তল্লাটে শুভেন্দুর কনভয়কে ঘিরে 'চোর-চোর' স্লোগান দেওয়া হয়। গাড়ি থেকে নেমে পড়েন শুভেন্দু। এবার শুরু হয় 'জয় বাংলা' স্লোগান। শুভেন্দুকে বলতে শোনা যায়, "আমার এমএলএ অফিস থেকে সবাইকে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। এইসব করে লাভ হবে না। একুশের মতো আর হবে না এবার। সব মহল্লায় যাবো, আটকাতে পারবে না কেউ"।
এরপর 'আক্রান্ত' বিজেপি সমর্থক মুসলিম পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান শুভেন্দু অধিকারী। দলনেতাকে সামনে পেয়ে কিছুটা আশ্বস্ত হন সেখানকার বিজেপির সমর্থকরা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তাঁরা, "সাব মার্সিবল থেকে জল নেওয়া যাবে না, টোটোয় ওঠা যাবে না। তিনটে মহল্লা থেকে (সালিশী) ডেকে আমাদের বয়কট করা হয়েছে। মসজিদে যেতেও বারণ। কেউ মারা গেলেও তার বাড়িতে যাওয়া যাবে না। ভাই টোটো চালায়। সেই টোটোয় গ্রামের লোক উঠতে পারবে না"।
হিন্দুরা তৃণমূল করলে মুসলিমরা বিজেপি করতে পারবে না?
কর্মীদের আশ্বস্ত করে দলের সংখ্যালঘু মোর্চাকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন শুভেন্দু। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "এটা কি মধ্যযুগীর বর্বরতা? হিন্দুরা তৃণমূল করলে মুসলমানরা বিজেপি করতে পারবে না? এ জিনিস হবে না। ভারতের সংবিধান অধিকার দিয়েছে, প্রত্যেকে নিজের নিজের মত, ধর্ম পালন করতে পারবে। সংবিধানের উপর কেউ নয়। রাকিবুল ও তাঁর পরিবার বিজেপি করে বলে, সরকারি টাকায় সাব মার্সিবল জল পর্যন্ত নিতে দেওয়া হচ্ছে না। নামাজের সময়ে মসজিদে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। (সাংবাদিকদের উদ্দেশে) সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কারা করে দেখুন। (রাকিবুলকে উদ্দেশ করে) তোমার কেশাগ্র কেউ স্পর্শ করলে ভালো হবে না। সাহাউদ্দিন-সহ ১১ জন এখানে জেল খেটেছে। মহম্মদপুরের পঞ্চায়েত প্রধানসহ। ৯ টা খুনের মামলায় এদের নামে ওয়ারেন্ট পেন্ডিং রয়েছে। মামণি জানার মামলা আদালতের হস্তক্ষেপে এনআইএ-র হাতে গেছে। আমি সাবধান করে দিয়ে যাচ্ছি, আপনারা (তৃণমূল) আপনাদের কথা বলবেন, আমরা আমাদের কথা বলব। মানুষ একপক্ষকে গ্রহণ করবে, অন্য পক্ষকে বর্জন করবে। আমরা আমাদের কোনও মুসলিম ভাইকে আমাদের ধর্মীয় স্লোগান দিতে বলি না। তাঁরা 'ভারত মাতা কি জয়' বলেন। মোদীজির সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের সুফল সবাই পেয়েছে। রেশন কি হিন্দুরা শুধু পায়? প্রধানমন্ত্রী আবাসের বাড়ি কি শুধু হিন্দুরা পেয়েছে? মুসলিমরা পায়নি? একুশে মুসলিম গ্রামে ঢুকতে দেয়নি, এবার আর তা হবে না। এখানে অনেক মুসলিম যুবক আছেন। মাসুদের চাকরি খেয়েছে, তবু সে মাথা নত করেনি। এখানে আব্বাস ভাই আছেন, ফৈয়াজ ভাই আছেন, হাকিবুল ভাই আছেন। এখানকার সাধারণ গরিব মুসলিমদের কোনও উন্নতি হয়নি। সুফিয়ান, সাহাউদ্দিনদের পাকা বাড়ি হয়েছে। চাকরি পেয়েছে সাহাউদ্দিনের বাড়ির লোকেরা। তাই, মুসলিমরা এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে"।