কমিশন হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আগেই: এতটুকু বেচাল দেখলেই কড়া পদক্ষেপ। এবার শুরু হল 'অ্যাকশন'। খাস কলকাতা পুলিস এলাকার একাধিক থানার ওসি-কে সাসপেন্ড করা হল গত ২৪ ঘণ্টায়। এবং, অপসারিত করা হল আরও দুই থানার ওসি-...
কমিশন হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আগেই: এতটুকু বেচাল দেখলেই কড়া পদক্ষেপ। এবার শুরু হল 'অ্যাকশন'। খাস কলকাতা পুলিস এলাকার একাধিক থানার ওসি-কে সাসপেন্ড করা হল গত ২৪ ঘণ্টায়। এবং, অপসারিত করা হল আরও দুই থানার ওসি-কে। এমতাবস্থায়, পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিলেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের মন্তব্য, বাংলায় ভোট-কালচার পাল্টাবে এবার।
ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন কালীঘাট-গোপালনগর চত্বর জুড়ে শাসক ও বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তুমুল গন্ডগোল বাধে। প্রশ্ন ওঠে পুলিসের ভূমিকা নিয়ে। এমতাবস্থায়, শনিবার শাস্তির খাঁড়া নেমে আসে সংশ্লিষ্ট থানার আধিকারিকদের মাথার উপর। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় কলকাতা পুলিশের চারজন আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সেইসঙ্গে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও। এই তালিকায় রয়েছেন কলকাতা দক্ষিণের ডিসি-২ সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী ও অ্যাডিশনাল ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়কে। দ্বিতীয় দফায় সিইও দফতরের সামনে নজিরবিহীন গন্ডগোল সামলাতে ব্যর্থ হওয়ার সরানো হল হেয়ার স্ট্রিট থানার ওসি-কে। সরানো হল চেতলা থানার ওসি-কেও। কমিশন ও লালবাজার সময় বেঁধে দিয়েছিল, প্রত্যেকটি থানার এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় থাকা ক্রিমিনাল লিস্ট টাঙিয়ে জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই নির্দেশ পালন করতে না-পারায় সাসপেন্ড করা হল কসবা থানার ওসিকে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পুলিসের শীর্ষপদে রদবদলের পর থানাস্তরেও অদল-বদল শুরু করে কমিশন। এবং, বিরোধীদের অভিযোগে সিলমোহর দিয়েই। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী-সহ বিরোধী নেতারা প্রথম থেকেই অভিযোগ করে এসেছেন, এসপি-রা নন, 'ভোট করান' থানার আইসি-ওসি-রা। এমতাবস্থায়, গত মার্চের একেবারে শেষে রাজ্যজুড়ে থানাস্তরে ১৪২ জন আধিকারিককে বদল করে কমিশন। এই তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, মোটের ওপর তাঁরা সবাই ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। যাঁরা বিভিন্ন থানার ওসি বা আইসি পদের দায়িত্ব রয়েছেন। শুধু তা-ই নয়। পর্যবেক্ষকদের কাছে যা আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে, এই বদলের তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই সিআইডি বা আইবি-তে কোনও-না-কোনও দায়িত্বে রয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত পুলিস কর্তাদের কেউ কেউ বলছেন, ভোটের আগে পাবলিক-পালস বুঝতে গোয়েন্দাগিরির করে সরকারকে রিপোর্ট দেন আইবি ও সিআইডি-র আধিকারিকরাই।
কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলা পুলিস ও পুলিস জেলায় এই রদবদল হয়েছে। এই বদলের তালিকায় রয়েছেন কলকাতা পুলিসের ইনস্পেক্টর পদমার্যাদার ৩১ জন। যাঁরা মূলত কলকাতার কোনও-না-কোনও থানার ওসি বা অ্যাডিশনাল ওসি।
বাংলার ভোট-কালচার এবার বদলাবে?