বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ময়দানে নেমেছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। প্রত্যেক দিনই একাধিক সভা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, রবিবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে দলীয় প্রার্থী শাওনী সিংহ রায়ের...
বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ময়দানে নেমেছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। প্রত্যেক দিনই একাধিক সভা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, রবিবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে দলীয় প্রার্থী শাওনী সিংহ রায়ের সমর্থনে এক হাই-ভোল্টেজ জনসভা করেন মমতা। প্রথমে সামশেরগঞ্জের সভা শেষ করে হেলিকপ্টারে জিয়াগঞ্জের তোকিয়ায় পৌঁছন তিনি। সেখান থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপির পতন অনিবার্য। ভবিষ্যতে দিল্লিও দখল করবেন।
এদিন দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “তৃণমূলের যে প্রার্থীকেই আপনারা ভোট দেবেন, মনে রাখবেন সেই ভোটটা আমিই পাব। ২৯৪টি আসনেই আমি নিজে প্রার্থী।” রাজনৈতিক মহলের মতে, স্থানীয় স্তরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে ভোটাররা যাতে ঘাসফুল চিহ্নেই আস্থা রাখেন, সেই লক্ষ্যেই ফের এই পুরনো রণকৌশল ব্যবহার করলেন তিনি।
বিজেপির বিরুদ্ধে 'মগজে বিষ' ঢোকানোর অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “আমরা আগে মানুষ, তারপর আমাদের ধর্ম। ধর্ম নিয়ে দাঙ্গা লাগানো বা বাংলা ভাগ করার রাজনীতি আমরা সহ্য করব না। এসআইআর ইস্যুতে ২৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার দায় বিজেপিকেই নিতে হবে।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লক্ষ্য করে জুতো দেখানোর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতায় উঠে আসে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের ওপর বিধিনিষেধের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাছ খেতে দেওয়া হয় না, মাংসের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ডিম খেতেও বাধা দেওয়া হয়। অথচ তারাপীঠ থেকে কালীঘাট আমাদের সব জায়গার ভোগে মাছ থাকে। বাংলার মানুষ কি মাছ-মাংস-ডিম খাবে না? আমাদের সংস্কৃতিকে বারবার অসম্মান করা হচ্ছে।”