ছাব্বিশের বিধানসভায় যখন প্রধান প্রতিপক্ষ ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তখন দলের মধ্যেই কি অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?এদিন পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় দলী...
ছাব্বিশের বিধানসভায় যখন প্রধান প্রতিপক্ষ ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তখন দলের মধ্যেই কি অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?
এদিন পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় দলীয় প্রার্থী মন্দিরা দলুইয়ের সমর্থনে এক সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গেল, "দল সবার উপর নজর রাখছে, রাতের অন্ধকারে কারা বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তাদের সতর্ক করে যাচ্ছি, ৪ তারিখ (ফল ঘোষণার দিন) দেখা হবে "।
পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, ঘাসফুল শিবিরের অন্দরেই 'পদ্ম' ফুটছে অদৃশ্যভাবে। ফলে, অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া, "একসময়ে সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপিতে রয়েছে" বলে অভিষেকের মন্তব্যে বোঝা মুশকিল, শাসক দলের প্রধান প্রতিপক্ষ ঠিক কে? রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ বলছে, উনিশের লোকসভায় বাংলা থেকে অপ্রত্যাশিত ভাবে বিজেপির ১৮ টি আসন পাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে একটাই সমীকরণ: 'বামের ভোট রামে'। এবার ঘরের ভোট ঘরে ফেরাতে চাইছে বামেরা। এদিকে, একুশের বিধানসভার আগে ও পরে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে ও বিজেপি থেকে তৃণমূলে আনাগোনার অব্যাহত থেকেছে। শুধু তা-ই নয়। ছাব্বিশে দলের টিকিট না-পেয়ে দুই শিবিরের বহু নেতানেত্রী রীতিমতো ক্ষুব্ধ। কেউ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করছেন, কেউ-বা চোরাগোপ্তা অন্তর্ঘাত হানার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এমতাবস্থায়, তৃণমূল বা বিজেপি, কোনও দলই অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছে না। এবং, এই প্রেক্ষাপটেই এদিন অভিষেক-মন্তব্য রাজনৈতিক ভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।